- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
বিদেশ থেকে মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক হ্রাসের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান। তিনি বলেন, অবৈধ আমদানি নিরুৎসাহিত করা এবং রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘পরবর্তী সরকারের আর্থ-সামাজিক অগ্রাধিকারসমূহ’ শীর্ষক এক সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দেশের ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত এখনও সন্তোষজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। রাজস্ব আহরণ বাড়ানো না গেলে উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে প্রয়োজনীয় ব্যয় নিশ্চিত করা কঠিন হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হলে অর্থনীতির গতি ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।
তবে বর্তমান আর্থিক চাপের মধ্যেও রাজস্ব আদায়ে তুলনামূলক ভালো অগ্রগতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে আমদানি শুল্কের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ভ্যাট ও আয়করের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান এনবিআর চেয়ারম্যান।
সেমিনারে রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড)-এর চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আবদুর রাজ্জাক বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা আরও সংকটে পড়বে। তাঁর মতে, গত তিন বছরে দেশে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ বেড়েছে।
আলোচনায় আরও জানানো হয়, গত এক বছরে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। পাশাপাশি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এলডিসি থেকে উত্তরণের সময়সীমা নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে খুব বেশি সময় পাবে না বলেও মত দেন বক্তারা।
র্যাপিডের পক্ষ থেকে বলা হয়, রাজস্ব আদায়ের বর্তমান গতি যদি আরও বাড়ানো না যায়, তাহলে নতুন সরকার চলতি অর্থবছরে বড় ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। এতে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প পিছিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সেমিনারে আসন্ন সরকারকে ১২টি খাতে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে— এলডিসি গ্রাজুয়েশন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংক খাতে সুশাসন, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ রাজস্ব বাড়ানো, স্বাস্থ্য ও শিক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধি, ঋণ কমানো, জ্বালানি নিরাপত্তা, শ্রমবাজারে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানো, তথ্যের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা জোরদার করা।