- ১৩ জুন, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্ট মেটার অভ্যন্তরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রকল্পকে কেন্দ্র করে কর্মীদের অসন্তোষ ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির ‘অ্যাপ্লাইড এআই’ ইউনিটে কর্মরত অনেক কর্মী তাদের কাজের পরিবেশ, দায়িত্ব বণ্টন এবং ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি অভ্যন্তরীণ অনলাইন উপস্থাপনার সময় আকস্মিকভাবে একজন অংশগ্রহণকারী শীর্ষ এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করলে বিষয়টি আলোচনায় আসে। ঘটনাটি মেটার নতুন গঠিত এআই ইউনিটের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা হতাশা ও অসন্তোষের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাত্র কয়েক মাস আগে গঠিত এই ইউনিটে হাজারো প্রকৌশলী ও পণ্য ব্যবস্থাপককে যুক্ত করা হয়। তবে অনেক কর্মীর দাবি, তাদেরকে পর্যাপ্ত বিকল্প না দিয়েই নতুন দলে স্থানান্তর করা হয়েছে। কেউ কেউ নিজেদের ‘ড্রাফটেড’ বা বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োজিত কর্মী বলেও উল্লেখ করেছেন।
জানা গেছে, দলটির সদস্যদের একটি বড় অংশকে এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য কোডিং সমস্যা, ধাঁধা এবং বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য তৈরির কাজ দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকজন কর্মীর অভিযোগ, এ ধরনের কাজ তাদের পেশাগত দক্ষতা ও আগ্রহের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং এতে কর্মসন্তুষ্টি কমে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, কোম্পানির ভেতরে এআই উন্নয়নের জন্য কর্মীদের কম্পিউটার ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ সংক্রান্ত একটি কর্মসূচি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়ে ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক কর্মী প্রতিবাদপত্রে স্বাক্ষর করেছেন বলে জানা গেছে।
মেটার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ সম্প্রতি কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় স্বীকার করেছেন যে, সাম্প্রতিক কিছু সাংগঠনিক পরিবর্তন কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অস্বস্তি সৃষ্টি করেছে। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি কিছু ক্ষেত্রে ভুল করেছে এবং সেগুলো সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এদিকে এআই খাতে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে মেটা বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চাভিলাষী এআই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পাশাপাশি কর্মীদের আস্থা ও সন্তুষ্টি ধরে রাখাও এখন কোম্পানিটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রযুক্তি খাতের তীব্র প্রতিযোগিতার এই সময়ে মেটার অভ্যন্তরীণ কর্মপরিবেশ ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটির এআই কৌশলের সফলতা বা ব্যর্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।