- ০৯ মার্চ, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সংঘাত শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করে প্রায় আড়াই লাখ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসসহ (এলএনজি) ১৫টি জাহাজ বাংলাদেশে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজ বর্তমানে ধাপে ধাপে চট্টগ্রাম বন্দর-এ ভিড়ছে এবং পণ্য খালাসের কার্যক্রম চলছে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাহাজগুলো মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিল। ওই সময় অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বাড়লেও সংঘাত শুরুর আগেই তারা নিরাপদে হরমুজ প্রণালি পার হতে সক্ষম হয়।
চট্টগ্রাম বন্দর সূত্রে জানা যায়, আগত জাহাজগুলোর মধ্যে অন্তত চারটিতে প্রায় ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে। এসব গ্যাস মূলত রাস লাফান বন্দর থেকে আনা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে গ্যাসের চাহিদা পূরণে এগুলো ব্যবহার করা হবে।
এছাড়া একটি জাহাজে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এসেছে, যা গৃহস্থালি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডার, হোটেল-রেস্তোরাঁ এবং ছোট শিল্পকারখানায় সরবরাহ করা হবে। অন্য কয়েকটি জাহাজে বিদ্যুৎকেন্দ্রে ব্যবহৃত ফার্নেস অয়েল, শিল্পখাতে ব্যবহৃত ডিজেলসহ বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল রয়েছে।
এদিকে কিছু কার্গো জাহাজে শিল্পকারখানার জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামালও এসেছে। এর মধ্যে রাসায়নিক পদার্থ, পেট্রোকেমিক্যাল উপাদান এবং প্লাস্টিক শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামাল রয়েছে, যা দেশের উৎপাদনমুখী শিল্পে ব্যবহার করা হবে।
বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা জানান, বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের কারণে এই পথ বন্ধ বা ব্যাহত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তাই সংঘাত শুরুর আগে জাহাজগুলো নিরাপদে বাংলাদেশে পৌঁছানো দেশের জ্বালানি সরবরাহের জন্য স্বস্তির বিষয়।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে আসা ১৫টি জাহাজ বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। জাহাজগুলোতে এলএনজি, জ্বালানি তেল এবং বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল রয়েছে। বন্দরে জাহাজ ভেড়ানো, পণ্য খালাস এবং সরবরাহ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।
তিনি জানান, আগত জাহাজগুলোর মধ্যে ‘লুসাইল’ ও ‘আল গালায়েল’ নামের এলএনজি ট্যাংকার রয়েছে। এছাড়া কয়েকটি কার্গো জাহাজে প্লাস্টিক ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্পে ব্যবহৃত কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য এসেছে, যা দেশের গার্মেন্টস, প্লাস্টিক ও রাসায়নিক শিল্পে কাজে লাগানো হবে।
এলএনজি জাহাজগুলোর স্থানীয় প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠান Uni Global Business Limited-এর জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম জানান, চারটি এলএনজিবাহী জাহাজের চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছানো প্রায় নিশ্চিত হয়েছে। তবে ‘লিবারেল’ নামের আরেকটি এলএনজি ট্যাংকার এখনো হরমুজ প্রণালির ভেতরে রয়েছে এবং প্রণালি অতিক্রমের অপেক্ষায় আছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, অধিকাংশ জাহাজ ইতোমধ্যে বন্দরে পৌঁছেছে এবং বাকিগুলোও পর্যায়ক্রমে আসবে। সংঘাতের আগে জাহাজগুলো নিরাপদে পৌঁছানো দেশের জ্বালানি ও শিল্প সরবরাহ ব্যবস্থার জন্য ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।