Thursday, October 1, 2026

মার্চেন্ট সৌরবিদ্যুতের দাম ও লাইন ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণ


প্রতীকী ছবিঃ বাংলাদেশ (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN

বেসরকারি বাণিজ্যিক সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র বা মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে বিদ্যুৎ কেনার নতুন পাইকারি দর নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। একই সঙ্গে জাতীয় সঞ্চালন ও বিতরণ অবকাঠামো ব্যবহার করে এসব কেন্দ্রের বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ‘ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ’ বা লাইন ব্যবহারের মাশুলও চূড়ান্ত করা হয়েছে।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে নতুন এ тариф কাঠামোর কথা জানিয়েছে বিইআরসি। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী অক্টোবর থেকেই নতুন হার কার্যকর হবে।

নতুন নির্ধারিত দরে একক ক্রেতা হিসেবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) সংযোগের ভোল্টেজের ওপর ভিত্তি করে মার্চেন্ট সৌরবিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ৬ টাকা ৯৮ পয়সা থেকে ৭ টাকা ১১ পয়সা দরে কিনতে পারবে।

মার্চেন্ট বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য শুধু সরকারি সংস্থার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রির সুযোগ থাকছে না। নীতিমালা অনুযায়ী, তারা সরাসরি বড় শিল্পগ্রাহকের কাছেও বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে বিদ্যুতের মূল্য ক্রেতা ও বিক্রেতার পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।

তবে সরকারি সঞ্চালন বা বিতরণ লাইন ব্যবহার করে ওই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে বিইআরসি নির্ধারিত ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ দিতে হবে। সংযোগের ধরন ও ভোল্টেজের ওপর নির্ভর করে এ মাশুল প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২২ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৯০ দশমিক ৯৭ পয়সা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিইআরসির বিজ্ঞপ্তিতে তিন ধরনের সংযোগ ব্যবস্থার জন্য পৃথক মাশুল কাঠামো দেওয়া হয়েছে। কোনো বিদ্যুৎকেন্দ্র সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত থাকে এবং গ্রাহক সরকারি বিতরণ সংস্থার আওতাভুক্ত হলে ২৩০ কেভি সংযোগে প্রতি ইউনিটে মোট মাশুল হবে ১ টাকা ৫৯ দশমিক ৮৯ পয়সা। ১৩২ কেভিতে এ হার ১ টাকা ৬০ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ১ টাকা ৬০ দশমিক ৯৭ পয়সা।

এর মধ্যে সঞ্চালন মাশুল হিসেবে ২৩০ কেভিতে প্রতি ইউনিটে ৩৭ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১৩২ কেভিতে ৩৮ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ৩৩ কেভিতে ৩৮ দশমিক ৯৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ গ্রহণের প্রান্তে বিতরণ মাশুল দিতে হবে ১ টাকা ১৭ পয়সা। এর সঙ্গে হিসাব ব্যবস্থাপনা ও বিল নিষ্পত্তির জন্য আরও ৫ পয়সা চার্জ থাকবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক যদি ভিন্ন ভিন্ন বিতরণ সংস্থার ভৌগোলিক এলাকায় থাকে, তাহলে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রান্তে অতিরিক্ত ৩০ পয়সা বিতরণ মাশুল যোগ হবে। সে ক্ষেত্রে ২৩০, ১৩২ ও ৩৩ কেভি সংযোগে মোট মাশুল দাঁড়াবে যথাক্রমে ১ টাকা ৮৯ দশমিক ৮৯ পয়সা, ১ টাকা ৯০ দশমিক ২৫ পয়সা এবং ১ টাকা ৯০ দশমিক ৯৭ পয়সা।

অন্যদিকে, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রাহক একই বিতরণ সংস্থার আওতায় থাকলে অতিরিক্ত ৩০ পয়সার মাশুল দিতে হবে না। আর জাতীয় গ্রিড ব্যবহার না করে একই বিতরণ লাইনের মাধ্যমে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলে মোট মাশুল হবে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২২ পয়সা। এ হিসাবের ক্ষেত্রে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) অধীন সব পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে একটি বিতরণ সংস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

বিতরণ সংস্থাভেদেও আলাদা মাশুল নির্ধারণ করেছে কমিশন। প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিতরণের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) ক্ষেত্রে ৭০ পয়সা, আরইবির ক্ষেত্রে ১ টাকা ৪৩ পয়সা, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ৮৫ পয়সা, ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো) ৯৯ পয়সা, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) ৮৭ পয়সা এবং নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) জন্য ১ টাকা ৪ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিইআরসি জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সঞ্চালনের ক্ষেত্রে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের মাসিক গড় সঞ্চালন ক্ষতি এবং বিতরণের ক্ষেত্রে সর্বশেষ সমাপ্ত অর্থবছরের বিতরণ ক্ষতির হার বিবেচনায় নেওয়া হবে। উৎপাদন থেকে সরবরাহ পর্যন্ত বিদ্যুতের কেন্দ্রীয় হিসাব সংরক্ষণ ও বিল নিষ্পত্তির দায়িত্ব থাকবে বিপিডিবির ওপর।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই ২০২৫ সালে সরকার মার্চেন্ট পাওয়ার নীতিমালা প্রণয়ন করে। ওই নীতিমালার আওতায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তার ঘোষিত মাসিক উৎপাদনের সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ সরকারি বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করতে পারে। বাকি ৮০ শতাংশ বিদ্যুৎ সরাসরি বেসরকারি বড় শিল্পগ্রাহকের কাছে সরবরাহের সুযোগ রয়েছে।

মার্চেন্ট সৌরবিদ্যুতের মূল্য ও লাইন ব্যবহারের মাশুল নির্ধারণের আগে গত ২৩ আগস্ট এ বিষয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি। শুনানিতে কমিশনের মূল্যায়ন কমিটি সরকারি ক্রয়ের জন্য প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দর ৬ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছিল।

ওই শুনানিতে বিতরণ সংস্থাগুলো বড় শিল্পগ্রাহক সরাসরি মার্চেন্ট বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ নিলে তাদের রাজস্ব কমে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে। অন্যদিকে উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে বলা হয়, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবহারে অতিরিক্ত মাশুল আরোপ করা হলে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বেসরকারি বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

নতুন মূল্য ও ওপেন অ্যাকসেস ট্যারিফ কার্যকর হওয়ার ফলে মার্চেন্ট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে সরকারি ক্রয় এবং বড় গ্রাহকের কাছে সরাসরি বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট আর্থিক কাঠামো তৈরি হলো।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন