- ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। কুমিল্লা
কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন সামনে রেখে নগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনে তৎপরতা বাড়ছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীদের অনেকেই ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হয়েছেন। নামাজ, জানাজা, সামাজিক অনুষ্ঠান, বিভিন্ন আন্দোলন ও জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে তাদের উপস্থিতি ঘিরে নগরীতে নির্বাচনী আলোচনা শুরু হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কেউ দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন, আবার কেউ সরাসরি নগরবাসীর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন। ফলে আনুষ্ঠানিক তফসিলের আগেই কুমিল্লার রাজনীতিতে সিটি নির্বাচনকে ঘিরে নানা সমীকরণ নিয়ে আলোচনা চলছে।
বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের বর্তমান প্রশাসক ও মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু। প্রশাসক হিসেবে নগরীর বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমের পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় রয়েছেন তিনি। মহানগর বিএনপির সদস্য কাউসার জামান বাপ্পির নামও মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার এবং সাবেক মেয়র মনিরুল হক সাক্কুও দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। অতীতে সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কারণে দল থেকে বহিষ্কৃত এই দুই নেতা বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের জন্য দলের কাছে আবেদন করেছেন।
ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, দলের হাইকমান্ড এবং দলীয় প্রধান যে সিদ্ধান্ত দেবেন, তিনি সেটিই অনুসরণ করবেন। বর্তমানে নগরবাসীর সেবা করাকেই নিজের প্রধান দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন বলে জানান তিনি।
নিজাম উদ্দিন কায়সার বলেন, বহিষ্কারাদেশ থাকলেও তিনি দলীয় কর্মকাণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন নন। অতীতেও তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনুরোধে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন উল্লেখ করে এবারও দল বিষয়টি বিবেচনা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
মনিরুল হক সাক্কুও দলীয় হাইকমান্ডের কাছে বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করার কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দলের জন্য নিয়মিত কাজ করছেন এবং আগামী নির্বাচনে দল ও কর্মী-সমর্থকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন।
কুমিল্লা নগরীতে জামায়াতে ইসলামীর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমির মোসলেহ উদ্দিন এবং শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি মো. মজিবুর রহমান ভূঁইয়ার নাম আলোচনায় রয়েছে।
তবে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামরুজ্জামান সোহেল। তার ভাষ্য, দল যাকে প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করবে, তিনিই নির্বাচনে অংশ নেবেন। দলীয় প্রার্থীকে সামনে রেখে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
অন্যদিকে কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে এনসিপি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। দলীয় ঘোষণার পর তিনি নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সামাজিক ও জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডে অংশ নিচ্ছেন। বাসিন্দাদের সঙ্গে দেখা করে তাদের কথা শুনছেন এবং বিভিন্ন স্থানীয় ইস্যুতে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি কুমিল্লা সিটির ভোটারও হয়েছেন বলে স্থানীয় নির্বাচনসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এসেছে।
তারিকুল ইসলাম বলেন, নগরবাসীর সেবা করার লক্ষ্যেই তিনি প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নেমেছেন। গণসংযোগের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করছেন। দল তাকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে এবং নির্বাচনে জোটের সমর্থন পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের আগের নির্বাচনগুলোর ফলেও মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র পাওয়া যায়। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে ২০১২, ২০১৭, ২০২২ এবং ২০২৪ সালের কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফল সংরক্ষিত রয়েছে।
২০১২ সালের প্রথম নির্বাচনে মনিরুল হক সাক্কু ৬৫ হাজার ৫৭৭ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। ২০১৭ সালের নির্বাচনেও তিনি ৬৮ হাজার ৯৪৮ ভোট পেয়ে জয় পান।
২০২২ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আরফানুল হক রিফাত ৫০ হাজার ৩১০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। ওই নির্বাচনে মনিরুল হক সাক্কু পান ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট এবং নিজাম উদ্দিন কায়সার পান ২৯ হাজার ২৯ ভোট।
আরফানুল হক রিফাতের মৃত্যুর পর ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের তাহসীন বাহার সূচনা ৪৮ হাজার ৮৯০ ভোট পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী মনিরুল হক সাক্কু পেয়েছিলেন ২৬ হাজার ৮৯৭ ভোট। নিজাম উদ্দিন কায়সার পেয়েছিলেন ১৩ হাজার ১৫৫ ভোট।
এবারের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন, সম্ভাব্য প্রার্থীদের ব্যক্তিগত তৎপরতা এবং দলগুলোর পারস্পরিক সমঝোতা—সব মিলিয়ে কুমিল্লা সিটির নির্বাচনী মাঠে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে। তবে প্রার্থী চূড়ান্ত ও নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পরই প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।