- ০৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ২০২৫ ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যমে যে বিতর্ক ও প্রশ্ন উঠেছে, তা নিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী সংগঠনগুলোর জাতীয় নেটওয়ার্ক ক্রেডিট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম (সিডিএফ)। সংগঠনটির দাবি, প্রস্তাবিত এই অধ্যাদেশ ক্ষুদ্রঋণবান্ধব নয় বা এটি মুনাফাভিত্তিক উদ্যোগ—এমন আশঙ্কার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিডিএফ জানায়, ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ একটি ইতিবাচক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ, যা বাস্তবায়িত হলে দেশের ক্ষুদ্রঋণ খাত আরও সুসংগঠিত, শক্তিশালী ও দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে।
সিডিএফের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংককে একটি সামাজিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনার বিষয়টি আইনটির খসড়াতেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। খসড়ার একটি ধারায় বলা হয়েছে, বিনিয়োগকারীরা কেবল তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত পাবেন, এর বাইরে কোনো অতিরিক্ত লভ্যাংশ গ্রহণের সুযোগ থাকবে না। ফলে এ উদ্যোগকে মুনাফাভিত্তিক বা ব্যক্তিমালিকানার প্রকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
গণমাধ্যমে উত্থাপিত আরেকটি প্রশ্ন হলো—ব্যাংক কাঠামোয় গেলে ক্ষুদ্রঋণের মূল উদ্দেশ্য থেকে বিচ্যুতি ঘটতে পারে কি না। এ বিষয়ে সিডিএফ বলছে, প্রস্তাবিত ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য হবে দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের বিকাশে সহায়তা করা। ঋণ কার্যক্রমের পাশাপাশি ব্যাংকটির আওতায় ইনস্যুরেন্স, রেমিট্যান্স, অনুদান ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিখাতে ঋণ সম্প্রসারণের সুযোগও থাকবে।
এনজিও ও ব্যাংকের দ্বৈত নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে শঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে, সেটিকেও অযৌক্তিক বলে মনে করছে সিডিএফ। তাদের মতে, কোনো এনজিওকে বাধ্যতামূলকভাবে ব্যাংকে রূপান্তর করা হবে না। সংস্থাগুলো চাইলে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে তাদের কার্যক্রম ব্যাংকের আওতায় আনতে পারবে। তবে ব্যাংকে রূপান্তরিত অংশ সম্পূর্ণ আলাদা কাঠামোয় পরিচালিত হবে এবং সেটি বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে থাকবে। অপরদিকে, এনজিওর অবশিষ্ট অংশ থাকবে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ)-এর অধীনে।
সম্পদ ও দায় স্থানান্তর নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে বলে মনে করছে সংগঠনটি। সিডিএফ জানায়, কেবল যে অংশটি ব্যাংকে রূপান্তরিত হবে, সেই অংশের সম্পদ ও দায়ই স্থানান্তরিত হবে। একটি এনজিওর সব সম্পদ বা দায় একসঙ্গে ব্যাংকের আওতায় চলে যাবে—এমন কোনো বিধান নেই।
প্রস্তাবিত ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোকেও ইতিবাচক হিসেবে দেখছে সিডিএফ। তাদের মতে, ব্যাংকের মোট শেয়ারের ৬০ শতাংশ থাকবে দরিদ্র সদস্যদের মালিকানায়। এতে ক্ষুদ্রঋণের মূল লক্ষ্যগোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে এবং ব্যাংকের সম্ভাব্য উদ্বৃত্তের সুফল সরাসরি তারাই ভোগ করবে। উদাহরণ হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংকের মালিকানা কাঠামোর কথাও উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
সিডিএফ আরও জানায়, যেহেতু বিনিয়োগকারীরা অতিরিক্ত মুনাফা বা ডিভিডেন্ট পাবেন না, তাই ব্যক্তিগত লাভের উদ্দেশ্যে কেউ এই ব্যাংকে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন না। ফলে অবশিষ্ট শেয়ারে বিনিয়োগ আসবে মূলত বিভিন্ন এনজিওর উদ্বৃত্ত তহবিল থেকে, যা শেষ পর্যন্ত দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণেই ব্যবহৃত হবে।
সংগঠনটির দাবি, এশিয়া ও আফ্রিকার অনেক দেশে ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক থাকলেও সেগুলো মূলত মুনাফাভিত্তিক। সে তুলনায় বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক একটি ব্যতিক্রমী ও উন্নত ধারণা নিয়ে আসছে, যা সফল হলে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও একটি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পারে।