- ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। খুলনা
কোর্স রেজিস্ট্রেশন ফি কমানো, রেজিস্ট্রেশনের সময় বাড়ানো এবং ছাত্র প্রতিনিধি ব্যবস্থা বাতিলের দাবিতে মধ্যরাতে উত্তাল হয়ে ওঠে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় (খুবি) ক্যাম্পাস। গভীর রাতে শতাধিক শিক্ষার্থী একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
মঙ্গলবার রাতে শিক্ষার্থীরা হাদি চত্বরে সমবেত হন। সেখান থেকে তারা মিছিল নিয়ে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন হল, খান বাহাদুর আহছানউল্লা হল ও খান জাহান আলী হল প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। এ সময় বিভিন্ন স্লোগানে তারা নিজেদের দাবি তুলে ধরেন।
বিক্ষোভকারীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন শেষ করতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী সমস্যায় পড়ছেন। পাশাপাশি বর্তমান কোর্স রেজিস্ট্রেশন ফি অনেকের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই ফি বাড়ানো হয়েছে বলে তারা মনে করছেন, যা গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তারা ছাত্র প্রতিনিধি ব্যবস্থার পরিবর্তে সরাসরি ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া চালুর আহ্বান জানান।
ফার্মেসি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী আলিফ মাহমুদ বলেন, শিক্ষার্থীদের মতামত উপেক্ষা করেই রেজিস্ট্রেশন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীর জন্য এই বাড়তি অর্থ দেওয়া কঠিন, তাই অযৌক্তিক ফি কমানো জরুরি।
ইংরেজি ডিসিপ্লিনের শিক্ষার্থী রেজওয়ানুল হক রাদ বলেন, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে অরাজনৈতিক ক্যাম্পাস হিসেবে পরিচিত। ছাত্র প্রতিনিধি ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক প্রভাব ঢুকে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা সাধারণ শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না।
ব্যবসায় শিক্ষা ডিসিপ্লিনের তানভীর কবির বলেন, এক কর্মদিবসের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন ফি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা, রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা বৃদ্ধি এবং ডিসিপ্লিন প্রতিনিধি ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে। দাবি পূরণ না হলে শিক্ষার্থীরা আরও কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবে বলেও তিনি জানান।
এ বিষয়ে সহকারী ছাত্রবিষয়ক পরিচালক এহসান মাজিদ মোস্তফা বলেন, শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও দাবিগুলো শোনা হয়েছে এবং সেগুলো প্রশাসনের কাছে উপস্থাপন করা হবে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত প্রশাসন নেবে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দাবি করেছে, রেজিস্ট্রেশন ফি বাড়ানোর বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এস. এম. মাহবুবুর রহমান জানান, প্রশাসন থেকে এ ধরনের কোনো নোটিশ জারি হয়নি। তাঁর মতে, আইসিটি সিস্টেমের ত্রুটি বা রিটেক কোর্সের তথ্যের কারণে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হতে পারে।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ খানও জানান, টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও প্রশাসন ফি বৃদ্ধির কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়িয়ে পড়ছে, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।