Sunday, September 13, 2026

২০২৫ সালে রেকর্ড বাণিজ্য উদ্বৃত্তে চীন, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমলেও বিশ্ববাজারে দাপট


ছবিঃ পোর্ট (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

২০২৫ সালে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ইতিহাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত প্রায় ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমে গেলেও অন্যান্য অঞ্চলে রপ্তানি বৃদ্ধিই এই রেকর্ড অর্জনে বড় ভূমিকা রেখেছে।

শুল্ক প্রশাসনের তথ্যে দেখা যায়, ২০২৫ সালে চীনের মোট রপ্তানি আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৩ দশমিক ৭৭ ট্রিলিয়ন ডলারে। বিপরীতে আমদানি প্রায় স্থবির ছিল এবং মোট আমদানি হয়েছে আনুমানিক ২ দশমিক ৫৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এর ফলে বাণিজ্য উদ্বৃত্ত আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

ডিসেম্বর মাসে চীনের রপ্তানি বার্ষিক ভিত্তিতে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, যা অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি। একই সময়ে আমদানিও ৫ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে, যা আগের মাসের তুলনায় অনেক বেশি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য উত্তেজনা ও উচ্চ শুল্ক আরোপের কারণে সেখানে চীনের রপ্তানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে সেই ক্ষতি পুষিয়ে গেছে আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ এবং লাতিন আমেরিকার বাজারে রপ্তানি বৃদ্ধির মাধ্যমে। পুরো ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের রপ্তানি কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ, অথচ আফ্রিকায় রপ্তানি বেড়েছে ২৬ শতাংশ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ১৩ শতাংশ, ইউরোপীয় ইউনিয়নে ৮ শতাংশ এবং লাতিন আমেরিকায় ৭ শতাংশ রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক বাজারে ইলেকট্রনিকস, সেমিকন্ডাক্টর ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির চাহিদা চীনের রপ্তানিকে শক্তিশালী করেছে। ইলেকট্রনিক ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ ছিল সবচেয়ে বড় রপ্তানি খাত, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ শতাংশের বেশি।

এ ছাড়া ২০২৫ সালে চীনের গাড়ি রপ্তানিও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শিল্পসংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির চাহিদার কারণে গত বছর ৭ মিলিয়নের বেশি গাড়ি রপ্তানি করেছে চীন, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ বেশি।

তবে আসবাবপত্র, জুতা ও অন্যান্য শ্রমনির্ভর পণ্যের রপ্তানি কিছুটা কমেছে। অন্যদিকে শস্য ও সার রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

শক্তিশালী রপ্তানি প্রবৃদ্ধির ফলে চীনের অর্থনীতি সরকারি লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি, প্রায় ৫ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছে। যদিও এতে কিছু দেশ উদ্বিগ্ন, কারণ তারা আশঙ্কা করছে সস্তা চীনা পণ্যের প্রবাহ স্থানীয় শিল্পকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।

চীনের শুল্ক প্রশাসনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, ২০২৬ সালে বৈদেশিক বাণিজ্য পরিবেশ আরও জটিল ও চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তবে তিনি বলেন, চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যের ভিত্তি এখনও শক্তিশালী।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চীনকে রপ্তানি নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে। দেশটির আবাসন খাতে দীর্ঘমেয়াদি মন্দা এবং ভোক্তা আস্থার দুর্বলতা এখনও অভ্যন্তরীণ চাহিদার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।

অর্থনীতিবিদদের ধারণা, ২০২৬ সালে চীনের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কিছুটা কমে যেতে পারে। তবে আমদানি ধীরগতিতে থাকলে চলতি বছরেও দেশটির বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলারের ওপরে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন