Wednesday, January 14, 2026

গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হবে না: ওয়াশিংটন বৈঠকের আগে স্পষ্ট অবস্থান নুক ও কোপেনহেগেনের


ছবিঃ [১/৩] গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ও নালাকেরসুইটের চেয়ারম্যান জেন্স–ফ্রেডেরিক নিলসেন এবং ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন ২০২৬ সালের ১৩ জানুয়ারি ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ‘হল অব মিররস’-এ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য দেন। … লাইসেন্সিং অধিকার ক্রয় করুন (সংগৃহীত)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN 

গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে বসবাসকারী নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ ও সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ডেনমার্কের সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। স্বাধীনতা নিয়ে তাত্ক্ষণিক আলোচনা স্থগিত রেখে কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এই প্রেক্ষাপটে বুধবার ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসছেন গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেন্স–ফ্রেডেরিক নিলসেন স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড যুক্তরাষ্ট্রের কোনো অংশ হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। কোপেনহেগেনে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বর্তমান ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় যদি বেছে নিতে হয়, তবে গ্রিনল্যান্ড ডেনমার্কের পক্ষেই থাকবে। ন্যাটোর নিরাপত্তা বলয়কেই তারা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মনে করেন।

স্থানীয়দের মধ্যেও একই মনোভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। নুকে বসবাসকারী আইনজীবী ফিন মাইনেল বলেন, এই সময়ে ডেনমার্কের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক বজায় রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ। অন্যদিকে অবসরপ্রাপ্ত নাগরিক শার্লট হাইলমান যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হওয়ার ভাবনাকে নাকচ করে দিয়ে বলেন, ডেনমার্কই তাদের পরিচয় ও নিরাপত্তার ভিত্তি।

পর্যটন খাতের উদ্যোক্তা ক্যাসপার ফ্র্যাঙ্ক মোলার মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির কারণে গ্রিনল্যান্ডবাসীর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঐক্য আরও দৃঢ় হয়েছে। আগে যেখানে দ্রুত স্বাধীনতার দাবি ছিল, এখন সেখানে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাই প্রধান লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।

১৯৭৯ সাল থেকে ধাপে ধাপে স্বায়ত্তশাসনের পথে এগোলেও গ্রিনল্যান্ডের নেতারা মনে করছেন, এখনই পূর্ণ স্বাধীনতার তাড়া নেই। ব্যবসা ও খনিজসম্পদ বিষয়ক মন্ত্রী নাজা নাথানিয়েলসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ড অন্যদের কাছে কেবল একটি ভূখণ্ড হলেও তাদের কাছে এটি ঘরবাড়ি ও পরিচয়ের অংশ। তারা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র হতে পারে, কিন্তু নিজেদের আমেরিকান হিসেবে কল্পনা করে না।

ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন জানিয়েছেন, উত্তেজনা বাড়ানোর বদলে আলোচনার টেবিলে বসেই সমাধান খোঁজা তাদের লক্ষ্য। একই সঙ্গে আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করতে ন্যাটোর সঙ্গে সমন্বয় বাড়াচ্ছে ডেনমার্ক। ২০২৬ সালের মধ্যে গ্রিনল্যান্ডে বহুজাতিক সামরিক মহড়া আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন স্বীকার করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রের চাপ মোকাবিলা করা সহজ নয়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সামনে আরও কঠিন সময় আসতে পারে, যার জন্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে প্রস্তুত থাকা জরুরি।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন