Saturday, November 7, 2026

কোম্পানীগঞ্জে মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ ইমামের বিরুদ্ধে, গা-ঢাকা দেওয়ার দাবি


ফাইল ছবিঃ অভিযুক্ত নোমান বিন রব্বানী (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। সিলেট

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে ১৬ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ইমামের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ, রাতে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে তাকে বলাৎকার করেন ওই ইমাম। এ ঘটনা কাউকে জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত ইমাম আত্মগোপনে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার বটেরতল গ্রামে অভিযুক্ত ইমামের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

অভিযুক্ত ইমামের নাম হাফেজ মুফতি নোমান বিন রব্বানী (৩৫)। তিনি বটেরতল গ্রামের গোলাম রব্বানীর ছেলে। পাশাপাশি তিনি শহীদ স্মৃতি টুকেরবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ জামে মসজিদের ইমাম এবং দারুল আরক্বাম ইবতেদায়ি মাদ্রাসা, কোম্পানীগঞ্জের প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া স্থানীয় কয়েকটি ধর্মীয় ও রাজনৈতিক সংগঠনের পদেও রয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মসজিদে গেলে অভিযুক্ত ইমাম মাথাব্যথার কথা বলে তাঁকে মাথা মালিশ করতে বলেন। পরে ওই শিক্ষার্থী এশার নামাজে ইমামতি করেন। নামাজ শেষে তাঁকে বাড়িতে গিয়ে জানাতে বলা হয়, সেদিন রাতে ইমামের বাড়িতে তাঁর দাওয়াত রয়েছে এবং সেখানেই তাঁকে থাকতে হবে।

শিক্ষার্থী জানান, রাতে ইমামের বাড়িতে গিয়ে তিনি ও অভিযুক্ত ব্যক্তি একই কক্ষে ঘুমান। অন্য একটি কক্ষে ছিলেন ইমামের স্ত্রী। একপর্যায়ে পেটে ব্যথার কথা বলে ইমাম তাঁকে পেট মালিশ করতে বলেন। এরপরই তাঁর ওপর যৌন নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী। ঘটনাটি কাউকে জানালে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয় বলে তাঁর দাবি।

ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, ফজরের সময় অভিযুক্ত ইমাম তাঁকে মোটরসাইকেলে করে মসজিদে নিয়ে যান। পরে ফজরের নামাজ পড়ান। নামাজের পরও তাঁকে দিয়ে নিজের পা মালিশ করান। বাড়িতে ফিরে মায়ের কাছে পুরো ঘটনা খুলে বলেন ওই শিক্ষার্থী।

ছেলের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার দাবি করে ভুক্তভোগীর মা বলেন, এমন ঘটনা যেন আর কোনো শিশুর সঙ্গে না ঘটে। অভিযুক্ত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে শহীদ স্মৃতি টুকেরবাজার উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবুল হাশেম জানান, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছে। পরে তিনি প্রতিষ্ঠানের সভাপতিকে অবহিত করেছেন। সভাপতি শিক্ষার্থীকে লিখিত আবেদন দিতে বলেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ উছমান গনি বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ইমামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীর পরিবার।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন