- ০৫ নভেম্বর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধ, অন্যায়ভাবে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত বাতিল এবং আটক শ্রমিক নেতাদের মুক্তির দাবিতে টানা ষষ্ঠ দিনের মতো অস্থিরতা বিরাজ করছে ঢাকার আশুলিয়া ও সাভারের শিল্পাঞ্চলে। বৃহস্পতিবার সকালে শ্রমিকরা কারখানায় কাজে যোগ দিলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন কারখানায় কর্মবিরতি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রায় ১২০টি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে নির্ধারিত সময়ে হাজার হাজার শ্রমিক নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগ দেন। তবে আশুলিয়ার কয়েকটি বড় পোশাক কারখানায় শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের সড়ক থেকে সরিয়ে দেন। এ সময় কিছুটা উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
শিল্প পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আশুলিয়ার পাঁচটি কারখানায় প্রথমে কর্মবিরতি শুরু হয়। পরে আটটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হলে শ্রমিকরা অন্যান্য কারখানার সামনেও গিয়ে কাজ বন্ধের দাবি জানান। পরিস্থিতি বিবেচনায় বেলা ১১টার মধ্যে শতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।
শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, শ্রমিকদের কর্মবিরতির পর বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। একপর্যায়ে শ্রমিকরা সড়কে নেমে এলে বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে বুধবার পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ এবং পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনার পর সাভারেও চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের তৈরি পোশাক কারখানাসহ বেশ কয়েকটি কারখানা বন্ধ রয়েছে।
শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে সহায়তার অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশ তিন শ্রমিক নেতাকে আটক করেছে। তাঁরা হলেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ট্রেড ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম, জাতীয় গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের আশুলিয়া থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হালিম এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনসুর আলী।
বুধবার রাতে সাভার ও আশুলিয়া থানায় দায়ের করা তিনটি মামলায় প্রায় ২ হাজার ৩০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে ১৩ জনকে আটক করা হয়। সব মিলিয়ে সাভার-আশুলিয়ায় আটক ব্যক্তির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ জনে। তাঁদের মধ্যে শ্রমিক ছাড়াও ১৪ জন বহিরাগত রয়েছেন।
ঢাকা জেলা (উত্তর) গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম বৃহস্পতিবার সকালে জানান, শ্রমিক আন্দোলনে উসকানি ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে সহায়তার সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তিন শ্রমিক নেতাকে আটক করা হয়েছে।
তবে শ্রমিক নেতাদের আটকের ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ও সোয়েটার্স শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্র। সংগঠনটির আইনবিষয়ক সম্পাদক খায়রুল মামুন আটক নেতাদের দ্রুত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, সংলাপের পথ এড়িয়ে গ্রেপ্তার, হামলা ও মামলা করে শ্রমিক অসন্তোষের সমাধান সম্ভব নয়। বরং এ ধরনের পদক্ষেপ শ্রমিকদের আরও ক্ষুব্ধ করতে পারে। শ্রমিক ও তাঁদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
শ্রমিক অসন্তোষকে কেন্দ্র করে শিল্পাঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্ব পালন করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। প্রস্তুত রাখা হয়েছে জলকামান ও সাঁজোয়া যান (এপিসি)।
ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন জানান, বৃহস্পতিবার অনেক কারখানায় ছুটি দেওয়া হয়েছে। কারখানা খোলা রাখা বা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ মালিকপক্ষের। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং কোনো ধরনের নৈরাজ্য বরদাশত করা হবে না।
এদিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে হেমায়েতপুর, পদ্মার মোড়, উলাইলসহ আরিচা ও বাইপাইল-আবদুল্লাহপুর মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা।
পুলিশের দাবি, শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে শ্রমিকদের দাবি, আটক নেতাদের মুক্তি এবং মজুরি ও চাকরিসংক্রান্ত সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অসন্তোষ পুরোপুরি কাটার সম্ভাবনা কম।