Thursday, February 5, 2026

কনফিডেন্স সিমেন্টের নতুন কারখানা: নরসিংদী থেকে জাতীয় পর্যায়ে বিস্তার


ছবিঃ কনফিডেন্স সিমেন্টের নরসিংদীর সিমেন্ট কারখানার বাণিজ্যিক উৎপাদন কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠান (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের কনফিডেন্স গ্রুপ নতুন এক বড় বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের সিমেন্ট বাজারে জাতীয় উপস্থিতি গড়ে তুলতে যাচ্ছে। নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় ১০ একর জমিতে নির্মিত নতুন কারখানার জন্য কোম্পানিটি ৭৫০ কোটি টাকার বেশি খরচ করেছে। আজ শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে কারখানার উৎপাদিত সিমেন্ট বাজারজাতের উদ্বোধন করা হবে।

নতুন কারখানায় জার্মান প্রযুক্তি ভিআরএম ব্যবহার করে সিমেন্ট উৎপাদন করা হচ্ছে। প্রাইম ব্যাংকের নেতৃত্বে একাধিক ব্যাংক এই প্রকল্পে অর্থায়ন করেছে। ২০২০ সালে নির্মাণ কাজ শুরু হলেও করোনা মহামারির কারণে কিছুদিন কাজ বন্ধ থাকায় ২০২২ সালে পুনরায় তা চালু হয়।

কনফিডেন্স সিমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিন আহমেদ সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “নরসিংদীর নতুন কারখানার মাধ্যমে আমরা চট্টগ্রামকেন্দ্রিক কোম্পানি থেকে সারা দেশের কোম্পানি হিসেবে নিজেদের পরিচয় পুনর্নির্ধারণ করছি। আমাদের নতুন স্লোগান ‘বাংলাদেশের হৃদয়জুড়ে’।”

নতুন কারখানার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ১৮ লাখ টন, যা দৈনিক ৬ হাজার টন। চট্টগ্রামের মূল কারখানার উৎপাদন ক্ষমতা ১২ লাখ টন। নতুন কারখানা চালু হওয়ায় কোম্পানির মোট বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়াচ্ছে ৩০ লাখ টনে। নতুন কারখানায় প্রায় এক হাজার কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ পর্যন্ত কনফিডেন্স সিমেন্ট চট্টগ্রামভিত্তিক কোম্পানি হিসেবে পরিচিত ছিল। নতুন কারখানার মাধ্যমে কোম্পানির উৎপাদিত সিমেন্ট ঢাকার আশপাশ, উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বাজারজাত হবে। কোম্পানি সূত্র জানায়, নতুন কারখানার উৎপাদন শুরু হলে ব্যবসা এবং মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

কনফিডেন্স সিমেন্ট দেশের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত এবং ‘এ’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত। ২০২৪–২৫ অর্থবছরে কোম্পানিটি প্রায় ৯৭ কোটি টাকা মুনাফা করেছে, ব্যবসার পরিমাণ ছিল ৪০৯ কোটি টাকা। চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে মুনাফা হয়েছে ৩৪ কোটি টাকা।

দেশে সিমেন্টের মোট বাজার মূল্য প্রায় ৩০–৩৫ হাজার কোটি টাকা। বার্ষিক চাহিদা প্রায় চার কোটি টন, কিন্তু উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় আট কোটি টন, যা চাহিদার দ্বিগুণ। বর্তমানে দেশে ৩৫–৪০টি কোম্পানি সক্রিয়ভাবে সিমেন্ট উৎপাদন করছে, ফলে প্রতিযোগিতা তীব্র।

নতুন কারখানা চালু হওয়ায় কনফিডেন্স সিমেন্টের জাতীয় বাজারে উপস্থিতি আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশের সিমেন্ট শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন