- ২০ জানুয়ারি, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সাভারে ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত একাধিক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তি সবুজ শেখ ওরফে ‘সম্রাট’ ছয়টি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আদালতে দেওয়া তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি যাচাই করে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, আসামির বক্তব্যে অসংগতি থাকায় প্রতিটি তথ্য আলাদাভাবে যাচাই করা হচ্ছে।
ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান জানান, সোমবার সবুজ শেখকে আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেওয়া হয়। জবানবন্দি শেষে তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এর আগে পুলিশ তার বিরুদ্ধে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবঘুরে জীবনযাপনকারী সবুজ দীর্ঘদিন ধরে সাভার মডেল থানা এলাকা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস ও পৌর কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশে ঘোরাফেরা করত। তদন্তে উঠে এসেছে, নির্জন স্থানকে বেছে নিয়ে সে ভবঘুরে নারী-পুরুষদের সেখানে নিয়ে যেত এবং বিভিন্ন অজুহাতে হত্যাকাণ্ড ঘটাত। সর্বশেষ ঘটনায় পৌর কমিউনিটি সেন্টার এলাকা থেকে জোড়া হত্যার পর পোড়া লাশ উদ্ধার হলে বিষয়টি চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ ও আদালতে দেওয়া বক্তব্যে খুনের কারণ হিসেবে আসামি একেক সময় একেক ব্যাখ্যা দিয়েছে। কখনো অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, কখনো ব্যক্তিগত বিরোধ—এমন ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্যে সন্দেহ তৈরি হয়েছে। তাই এসব দাবির সত্যতা মিলিয়ে দেখতে তদন্ত জোরদার করা হয়েছে।
সবুজ শেখের পরিচয় নিয়েও বিভ্রান্তি রয়েছে। সে কখনো নিজেকে ‘কিং সম্রাট’ আবার কখনো অন্য নাম পরিচয়ে পরিচিত করার চেষ্টা করেছে। পুলিশ জানায়, তার দেওয়া ঠিকানা ও পারিবারিক তথ্য যাচাই করে এখনো নিশ্চিত মিল পাওয়া যায়নি। জন্মস্থান মুন্সিগঞ্জের লৌহজং এলাকা বলে জানা গেলেও সেটিও যাচাইাধীন।
গত সাত মাসে সাভার এলাকায় ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে পুলিশের নথিতে উল্লেখ রয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে কয়েকটি পৌর কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশে সংঘটিত হওয়ায় এলাকাটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও আলোর ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছিল। সর্বশেষ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই সন্দেহভাজন হিসেবে সবুজকে আটক করা হয়।
সাভার মডেল থানার কর্মকর্তারা জানান, আসামির মানসিক অবস্থাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরেই তাকে এলাকায় অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখা যেত। তবে সে যে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকতে পারে, তা কেউ ধারণা করেনি।
পুলিশ বলছে, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তি, আলামত ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ সাক্ষ্যের ভিত্তিতে তদন্ত এগোচ্ছে। যাচাই শেষে প্রকৃত ঘটনা ও হত্যাকাণ্ডের পেছনের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করা হবে।