- ১২ মার্চ, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরাকের উপসাগরীয় জলসীমায় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরক বোঝাই নৌযান ব্যবহার করে এই হামলা চালানো হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এতে একটি জাহাজের এক বিদেশি নাবিক নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
বুধবার গভীর রাতে ইরাকের উপকূলের কাছে হামলার শিকার হওয়া জাহাজ দুটি হলো মার্শাল দ্বীপপুঞ্জের পতাকাবাহী Safesea Vishnu এবং Zefyros। দুটি জাহাজই ইরাক থেকে জ্বালানি তেল বোঝাই করে যাত্রা শুরু করেছিল বলে বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে।
উদ্ধারকারীরা সমুদ্র থেকে এক বিদেশি নাবিকের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। তবে তিনি কোন জাহাজের ক্রু ছিলেন তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে এবং নিখোঁজ নাবিকদের খোঁজে তল্লাশি অব্যাহত রয়েছে।
ইরাকের রাষ্ট্রীয় বন্দর পরিচালনা প্রতিষ্ঠান General Company for Ports of Iraq-এর মহাপরিচালক ফারহান আল-ফারতৌসি জানান, উদ্ধারকারী একটি নৌযান দুই জাহাজ থেকে মোট ২৫ জন নাবিককে উদ্ধার করেছে। তবে জাহাজ দুটিতে আগুন এখনও পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি।
হামলার পর দেশটির তেলবন্দরগুলোতে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে, যদিও বাণিজ্যিক বন্দরগুলো সীমিতভাবে চালু রয়েছে।
এদিকে ইরাকি কর্মকর্তারা এই ঘটনাকে দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর গুরুতর লঙ্ঘন বলে আখ্যা দিয়েছেন। তাদের মতে, ইরাকের নিজস্ব জলসীমায় এ ধরনের নাশকতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
এ ঘটনার পাশাপাশি পারস্য উপসাগর ও গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি ঘিরেও উত্তেজনা বাড়ছে। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান এই পথ দিয়ে তেল পরিবহনে বাধা সৃষ্টি করেছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, প্রণালিতে মাইন পেতে রাখা ইরানি কয়েকটি নৌযানকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি সতর্ক করে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক নৌপথে মাইন বসালে এর কঠোর প্রতিক্রিয়া হবে।
এদিকে একই সময়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে আরও কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজে অজ্ঞাত উৎসের ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রজেক্টাইল আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে থাই পতাকাবাহী একটি জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং কয়েকজন নাবিক নিখোঁজ হন। অন্য কয়েকটি জাহাজে ক্ষয়ক্ষতি হলেও সেগুলোর অধিকাংশ ক্রু নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রভাব এখন উপসাগরীয় গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ও আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলেও ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ এবং সামুদ্রিক বাণিজ্যে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।