- ১২ মার্চ, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN । মোঃ মারজান মাহি
খুলনা মহানগরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও মাদক কারবারে জড়িত ৪৭৫ জনের একটি তালিকা তৈরি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। তালিকায় ২৮ জন চাঁদাবাজ, ৪৭ জন সন্ত্রাসী এবং প্রায় ৪০০ জন মাদক কারবারির নাম রয়েছে। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, ঈদের পর তাদের বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান শুরু হতে পারে।
পুলিশ ও গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, নতুন সরকারের নির্দেশনায় সারা দেশে সক্রিয় অপরাধীদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় খুলনা মহানগরের অপরাধীদের একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে কেএমপি।
তালিকাটি কয়েকটি ক্যাটাগরিতে বিভক্ত করা হয়েছে। এতে রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, সন্ত্রাসী সংগঠনের সদস্য, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক বিক্রেতা এবং স্বর্ণ চোরাচালানকারীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক ক্যাটাগরিতে মহানগর বিএনপির এক শীর্ষ নেতার নাম তালিকার শীর্ষে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বিপুল পরিমাণ চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। শুধু সোনা চোরাচালান সিন্ডিকেট থেকেই প্রায় ২৭ কোটি টাকা আদায়ের তথ্য গোয়েন্দাদের হাতে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। এছাড়া সরকার পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ ঘরানার এক আলোচিত ভূমিদস্যুর কাছ থেকেও পাঁচ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে ওই নেতার বিরুদ্ধে।
এছাড়া খুলনা সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন বড় প্রকল্পে প্রভাব বিস্তার, বেনামে প্রায় ১০০ কোটি টাকার পাঁচটি কাজ নেওয়া, মামলা-বাণিজ্য, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং বাস-ট্রাকস্ট্যান্ড ও বিভিন্ন বাজার থেকে নিয়মিত চাঁদা তোলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
গোয়েন্দা তথ্য বলছে, খুলনা মহানগরের ৩০২টি বস্তিতে অস্ত্রধারীদের অবাধ বিচরণ রয়েছে। প্রায় প্রতিটি বস্তিতে দুজন করে প্রশিক্ষিত শুটার রয়েছে এবং এসব এলাকায় গড়ে চারজন করে নারী মাদক বিক্রেতাও সক্রিয়।
পুলিশের হিসাব অনুযায়ী, নগরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ও বস্তিতে প্রায় ৪০০ মাদক কারবারি রয়েছে, যাদের একটি বড় অংশ নারী।
এ বিষয়ে কেএমপি কমিশনার মো. জাহিদুল হাসান বলেন, অপরাধীদের নতুন তালিকা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলে ঈদের পর কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে। সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ বা মাদক ব্যবসায়ী যে দলেরই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত এক মাসে খুলনা জেলা ও মহানগরে সাতটি আলোচিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশ্যে এসব হত্যাকাণ্ডে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
কেএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. তাজুল ইসলাম বলেন, অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে।