Tuesday, January 20, 2026

খাদ্যপণ্যে কর ছাড়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে আকস্মিক নির্বাচনের ডাক জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির


ছবিঃ ১৭ ডিসেম্বর টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। (সংগৃহীত । কিয়োশি ওটা / এএফপি / গেটি ইমেজেস)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি সোমবার হঠাৎ সাধারণ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আগামী দুই বছরের জন্য খাদ্যপণ্যের ওপর আরোপিত ৮ শতাংশ ভোগকর (কনজাম্পশন ট্যাক্স) স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিরোধী দলগুলোর অনুরূপ প্রস্তাবের প্রতিধ্বনি থাকলেও এই সিদ্ধান্ত দেশটির নড়বড়ে সরকারি অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।

বর্তমানে জাপানে খাদ্যপণ্যের ওপর ৮ শতাংশ এবং অন্যান্য পণ্য ও সেবার ওপর ১০ শতাংশ ভোগকর আরোপ রয়েছে। দ্রুত বয়স্ক জনগোষ্ঠী বাড়তে থাকায় সামাজিক সুরক্ষা ব্যয়ের বড় অংশ এই কর থেকেই আসে। কিন্তু জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের চাপ কমাতে কর ছাড়কে সামনে আনছেন রাজনীতিকেরা।

প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি বলেন, খাদ্যপণ্যের ওপর কর দুই বছর স্থগিত থাকলে মূল্যস্ফীতির ধাক্কা থেকে পরিবারগুলো কিছুটা স্বস্তি পাবে। তবে এই কর ছাড় দিতে সরকার নতুন করে ঋণ নেবে না বলে তিনি জানান। বরং বিদ্যমান ভর্তুকি ও ব্যয় পুনর্বিবেচনার মতো বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে তাকাইচি বলেন, “আমরা অতীতের অর্থনৈতিক ও আর্থিক নীতিতে বড় ধরনের সংস্কার আনব। আমার সরকার অতিরিক্ত কড়াকড়ি আর ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের ঘাটতির অবসান ঘটাবে।”

এই ঘোষণার পরই বাজারে প্রভাব পড়ে। কর ছাড়ের সম্ভাবনা এবং নির্বাচনের পর আরও সম্প্রসারণমূলক আর্থিক নীতি নেওয়া হবে—এমন ধারণায় ১০ বছর মেয়াদি জাপানি সরকারি বন্ডের সুদের হার বেড়ে ২৭ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ২.২৭৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

তবে অর্থনীতিবিদদের একাংশ এই সিদ্ধান্ত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দাইওয়া ইনস্টিটিউট অব রিসার্চের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ কেইজি কান্দা বলেন, “উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় সরকার ইতিমধ্যে বড় প্রণোদনা প্যাকেজ দিয়েছে। এরপরও ভোগকর কমানোর প্রয়োজনীয়তা আমি দেখি না। এতে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে এবং বন্ডের সুদহারও ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে।”

আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে বিরোধী দলগুলোর মধ্যেও কর কমানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সদ্য গঠিত একটি নতুন বিরোধী জোট খাদ্যপণ্যের ওপর ৮ শতাংশ কর পুরোপুরি বাতিলের দাবি জানিয়েছে। তারা বলেছে, স্থায়ী কর ছাড় দিতে নতুন একটি সার্বভৌম তহবিল গঠন করে রাজস্ব জোগাড় করা যেতে পারে। ডেমোক্রেটিক পার্টি ফর দ্য পিপলসহ অন্যান্য বিরোধী দলও কর কমানো বা তুলে দেওয়ার পক্ষে।

উল্লেখ্য, প্রায় চার বছর ধরে জাপানে মূল্যস্ফীতি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার ওপরে রয়েছে, যার প্রধান কারণ খাদ্যপণ্যের উচ্চ দাম। এই প্রেক্ষাপটে জনগণের ক্ষোভ সামাল দিতেই কর ছাড় ও ব্যয় বাড়ানোর চাপ বাড়ছে।

তবে শাসক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই কর কমানোর বিরোধিতা করে আসছে। তাদের যুক্তি, এতে আর্থিক শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে জাপানের অঙ্গীকার নিয়ে বাজারের আস্থা নষ্ট হতে পারে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, শুধু খাদ্যপণ্যের ওপর ৮ শতাংশ কর তুলে দিলে বছরে প্রায় ৫ ট্রিলিয়ন ইয়েন রাজস্ব কমে যাবে, যা দেশটির বার্ষিক শিক্ষা ব্যয়ের প্রায় সমান। বিশ্লেষকদের মতে, কর ছাড় স্থায়ী হলে জাপানের দুর্বল অর্থনীতি আরও চাপের মুখে পড়বে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়তে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন