- ১৯ মার্চ, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: PNN
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল ও ইরান সংঘাতের জেরে কাতারের প্রধান গ্যাস উৎপাদন কেন্দ্র রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কাতার সরকার।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, এই হামলা “স্পষ্ট আগ্রাসন” এবং দেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত। হামলার ফলে স্থাপনাটিতে আগুন লাগে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ক্ষতি হয়।
বিশ্বের বৃহত্তম তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান QatarEnergy জানায়, প্রাথমিকভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে এবং কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে পরবর্তীতে আরও কয়েকটি এলএনজি স্থাপনায় হামলার ফলে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও অতিরিক্ত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে।
হামলার জেরে কাতার কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশটির সরকার ইরানি দূতাবাসের সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ ঘোষণা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।
কাতারের দাবি, ইরানের এই পদক্ষেপ অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়াচ্ছে এবং নিরপেক্ষ দেশগুলোকে সংঘাতে জড়িয়ে ফেলছে।
এই হামলার আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হবে। এর আগে ইসরায়েলের হামলায় ইরানের সাউথ পার্স গ্যাসক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে হামলা বিশ্ববাজারে গ্যাস ও তেলের সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট Emmanuel Macron কাতারের আমির Tamim bin Hamad Al Thani এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর সঙ্গে কথা বলেছেন।
ম্যাক্রোঁ বলেন, বেসামরিক অবকাঠামো—বিশেষ করে জ্বালানি ও পানির সরবরাহ ব্যবস্থা—লক্ষ্য করে হামলা বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই ধরনের হামলা চলতে থাকলে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত ধীরে ধীরে বড় আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাতারের মতো জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশে হামলা আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা বাড়াতে পারে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত সংবেদনশীল, এবং যেকোনো সময় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।