Monday, January 19, 2026

কারিগরি শিক্ষকদের এমপিওভুক্তি স্থগিত, প্রথম ধাপে ২৮০ শিক্ষক সুবিধাভোগী হবেন


প্রতীকী ছবিঃ বাংলাদেশ সরকারের লোগো (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

দেশের বেসরকারি শিক্ষা খাতে দীর্ঘদিন ধরে চলমান শিক্ষক সংকট নিরসনে ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। তবে নিয়োগ সুপারিশ প্রাপ্ত বিপুলসংখ্যক কারিগরি শিক্ষকের এমপিওভুক্তি এখনও সম্পন্ন হয়নি, ফলে তারা মাসের পর মাস বেতন-ভাতা না পেয়ে আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

জানা গেছে, ৬ষ্ঠ গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ৮২২টি শূন্য পদের বিপরীতে ৪১ হাজার ৬২৭ জন শিক্ষকের নিয়োগ সুপারিশ করা হয়েছে। স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার অধিকাংশ শিক্ষকের এমপিওভুক্তি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হলেও কারিগরি শিক্ষকদের ক্ষেত্রে দীর্ঘসূত্রতা ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সুবিধা মিলছে না।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, সুপারিশ প্রাপ্ত হলেও এমপিওভুক্তির দীর্ঘ প্রক্রিয়ার কারণে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। অনেকে মাসের পর মাস বেতন ছাড়াই পাঠদান করছেন। এই পরিস্থিতি শিক্ষার গুণগত মান ও ধারাবাহিকতাকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পিআইইউ) মাকসুদুর রহমান জানান, শিক্ষক এমপিওভুক্তির জন্য অধিদপ্তর থেকে মোট ৪০০টি ফাইল উত্থাপন করা হয়েছে। এসব ফাইল দুটি পৃথক লটে যাচাই-বাছাই করে এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম ধাপে ২৮০টি ফাইলের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা শিগগিরই সুবিধাভোগী হবেন। পরবর্তী ধাপে বাকি ১২০ ফাইলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ছুটিতে থাকায় ২৮০টি ফাইলে স্বাক্ষর সম্ভব হয়নি। কর্তৃপক্ষ দায়িত্বে ফিরলেই এই ফাইলে স্বাক্ষর সম্পন্ন হবে এবং শিক্ষকরা দ্রুত এমপিও সুবিধার আওতায় আসবেন।

এছাড়া, শিক্ষকদের অভিযোগ, এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়ায় এখনও এনালগ পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে। ডিজিটাল প্রক্রিয়া কার্যকর না হওয়ায় আবেদন, যাচাই ও অনুমোদনের প্রতিটি ধাপে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শিক্ষকেরা দ্রুত ডিজিটালাইজড প্রক্রিয়া চালু করার দাবি জানিয়েছেন।

মামুন নামের একজন সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক বলেন, “সুপারিশ পাওয়ার দীর্ঘ সময় পার হলেও এখনও আমার এমপিও কার্যকর হয়নি। অন্যদের বেতন-ভাতা নিয়মিত দেওয়া হলেও আমাদের ক্ষেত্রে বৈষম্য দেখা যাচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি দ্রুত আমাদের এমপিওভুক্তি নিশ্চিত করা হোক।”

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর আশা প্রকাশ করেছে, প্রথম ধাপে ২৮০ ফাইল অনুমোদন হলে দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটবে এবং শিক্ষকরা বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুবিধা উপভোগ করতে পারবেন। তবে নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থ প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এমপিওভুক্তি এখনও সম্ভব নয়।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন