- ১০ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
শিল্পের কাঁচামাল, কৃষি উপকরণ ও সার আমদানিতে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে আমদানিকারকদের জন্য বাড়তি সময়ের সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব পণ্য আমদানির ক্ষেত্রে বিদেশি সরবরাহকারীর পাওনা আমদানির পর সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পরে পরিশোধের শর্তে লেটার অব ক্রেডিট (এলসি) খোলা যাবে।
সোমবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা জারি করে দেশের অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলোর কাছে পাঠিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আগের নিয়মে এই সুবিধা নির্দিষ্ট সময়সীমা পর্যন্ত এবং সর্বোচ্চ ৩৬০ দিনের জন্য কার্যকর ছিল। তবে সংশোধিত নির্দেশনায় ইউজেন্স বা বিলম্বিত পরিশোধের মেয়াদ কমিয়ে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন সার্কুলার অনুযায়ী, ইউজেন্স মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন অথবা সংশ্লিষ্ট গ্রাহকের ক্যাশ কনভার্শন সাইকেল এই দুইয়ের মধ্যে যেটি কম। অর্থাৎ গ্রাহকের ব্যবসায়িক লেনদেন ও নগদ প্রবাহ বিবেচনায় সময় নির্ধারণ করা হবে।
এবার এই সুবিধার জন্য কোনো নির্দিষ্ট শেষ তারিখ বেঁধে দেওয়া হয়নি। ফলে নির্দেশনাটি স্থায়ীভাবে কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
সার্কুলারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইউজেন্স সুবিধা দেওয়ার আগে ব্যাংকগুলোকে অবশ্যই আমদানিকারকের পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক কার্যক্রম, আমদানি-রপ্তানির ইতিহাস এবং আর্থিক লেনদেনের স্বচ্ছতা যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে নির্ধারিত ক্যাশ কনভার্শন সাইকেল বাস্তবসম্মত ও যুক্তিসংগত কি না, তা নিশ্চিত করার দায়িত্বও ব্যাংকগুলোর ওপর দেওয়া হয়েছে।
ব্যাক-টু-ব্যাক এলসির ক্ষেত্রে ইউজেন্স মেয়াদ নির্ধারণ করা হবে রপ্তানি আয় দেশে ফেরানোর জন্য নির্ধারিত সময়সীমার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে। তবে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ) ঋণের আওতায় যেসব আমদানি অর্থায়ন করা হয়, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই বর্ধিত ইউজেন্স সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত শিল্প ও কৃষিখাতের আমদানিকারকদের নগদ প্রবাহ ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি দেবে এবং উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।