- ১৮ আগস্ট, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। নোয়াখালী
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে মাত্র ১৪ দিনের এক নবজাতককে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্লাস্টিকের ড্রামে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। শিশুটির কান্নাকাটি ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর কারণেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন ১৯ বছর বয়সী মা ফাতেমা বেগম। ঘটনার পর তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়ির সৌরভ হোসেনের ঘরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুটি সৌরভ হোসেন ও ফাতেমা বেগমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের নভেম্বরে প্রেমের সম্পর্কের পর সৌরভ হোসেনের সঙ্গে ফাতেমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে নানা বিষয়ে বিরোধ চলছিল বলে স্থানীয়দের দাবি।
সোমবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ নবজাতককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে ফাতেমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি একেক সময় একেক ধরনের কথা বলেন। প্রথমে ফাতেমা দাবি করেন, পেছন থেকে কেউ তার মাথায় আঘাত করে শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে তিনি শিশুটিকে জিনে নিয়ে গেছে বলেও জানান। তার বক্তব্যে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে তারা ঘর ও আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে ঘরে রাখা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর নবজাতকের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ফাতেমা নবজাতককে ড্রামের পানিতে ফেলে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, শিশুটি প্রায়ই কান্নাকাটি করত, ঘুমাতে চাইত না এবং তারও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটত। এ কারণেই তিনি শিশুটিকে ড্রামের পানিতে ফেলে দেন বলে পুলিশকে জানান।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান বলেন, নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।