Sunday, October 4, 2026

ব্রাজিলে জমজমাট প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মুখোমুখি লুলা ও বলসোনারো


ছবিঃ পুনর্নির্বাচনের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা ৩ অক্টোবর, ২০২৬ তারিখে সাও পাওলোতে এক নির্বাচনী প্রচারণায় ব্রাজিলের পতাকা নাড়ছেন; দেশটির সাধারণ নির্বাচনের ঠিক আগের দিন এই ঘটনাটি ঘটে। (সংগৃহীত । আল জাজিরা /আন্দ্রে পেন্নার/এপি)

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | PNN

ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের আগে শেষ মুহূর্তের প্রচার শেষ করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এবং ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। রোববারের ভোটকে সামনে রেখে দুই প্রার্থীই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ব্যবধান কমে আসায় এবারের নির্বাচনকে বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

শনিবার সাও পাওলো শহরে সমর্থকদের নিয়ে মিছিলের মধ্য দিয়ে প্রচারের সমাপ্তি টানেন ৮০ বছর বয়সী লুলা। তাঁর প্রচারশিবিরের দাবি, শেষ নির্বাচনী কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশ নিয়েছেন।

সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে লুলা প্রথম দফাতেই জয় পাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। তিনি নির্বাচনকে গণতন্ত্র ও উগ্র ডানপন্থার মধ্যকার লড়াই হিসেবে তুলে ধরে ডানপন্থীদের পরাজিত করার আহ্বান জানান।

নির্বাচনী প্রচারে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকার বিষয়টিও সামনে এনেছেন লুলা। তিনি ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ওয়াশিংটনের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করে নির্বাচনকে দেশের সার্বভৌমত্বের পরীক্ষাও হিসেবে তুলে ধরেছেন।

অন্যদিকে ৪৫ বছর বয়সী ফ্লাভিও বলসোনারোও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ব্যাপক প্রচার চালিয়েছেন। সাও পাওলো অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল শোভাযাত্রা করে সমর্থকদের সঙ্গে সময় কাটান তিনি। পরে রিও ডি জেনেইরোতে এক সমাবেশে অংশ নিয়ে প্রথম দফাতেই জয় পাওয়ার আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন।

ফ্লাভিও সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে। নির্বাচনী প্রচারে বাবার রাজনৈতিক উত্তরাধিকারকে সামনে রেখেছেন তিনি। এক সমাবেশে বাবার একটি প্রতিকৃতি হাতে নিয়েও তাঁকে দেখা যায়।

জইর বলসোনারো বর্তমানে ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে পরাজয়ের ফল পাল্টানোর চেষ্টার অভিযোগে ২৭ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত।

ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে ফ্লাভিওকে সমর্থন না করলেও ব্রাজিলের নির্বাচন তিনি ‘খুব কাছ থেকে’ পর্যবেক্ষণ করছেন বলে জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এমন আগ্রহকে ঘিরে নির্বাচনী প্রচারে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

লুলার সমর্থকদের অভিযোগ, ওয়াশিংটন ব্রাজিলের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। অন্যদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ক্ষুব্ধ বলসোনারো সমর্থকদের একটি অংশ মনে করছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকলে দেশের অভ্যন্তরে পরিবর্তন আসতে পারে।

শনিবার প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপে লুলা এগিয়ে থাকলেও তাঁর সঙ্গে ফ্লাভিও বলসোনারোর ব্যবধান আগের তুলনায় কমেছে। ফলে রোববারের ভোটে কোনো প্রার্থীই প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারবেন না এমন সম্ভাবনাই বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সেক্ষেত্রে ২৫ অক্টোবর দ্বিতীয় দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে প্রথম দফায় সবচেয়ে বেশি ভোট পাওয়া দুই প্রার্থী মুখোমুখি হবেন। জনমত জরিপগুলোতে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার লড়াইটিও হাড্ডাহাড্ডি হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় এবারের লড়াই অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। ওই নির্বাচনে লুলা জইর বলসোনারোকে দুই শতাংশেরও কম ব্যবধানে পরাজিত করেছিলেন।

নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে ফ্লাভিও বলসোনারোর প্রচারশিবিরকে একটি চলচ্চিত্রের অর্থায়ন নিয়েও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে। তাঁর বাবার জীবন নিয়ে নির্মিত ‘ডার্ক হর্স’ নামের একটি চলচ্চিত্রে অর্থায়নের বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। সিনেমাটির অর্থায়নের সঙ্গে ব্রাজিলের বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় কারাবন্দী এক ব্যাংকারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া লুলাকে নিয়ে ফ্লাভিওর কিছু বক্তব্য মানহানিকর ছিল কি না, তা তদন্তে ফেডারেল পুলিশকে অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

ফ্লাভিও নির্বাচিত হলে তাঁর বাবাকে কারাগার থেকে মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্রাজিলের ইলেকট্রনিক ভোটিং ব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে বাবার পুরোনো প্রশ্নও সামনে এনেছেন তিনি। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মনে করছেন, নির্বাচনে পরাজিত হলে ফলাফল নিয়ে আপত্তি তোলার ক্ষেত্র প্রস্তুত করার কৌশল হিসেবেই এ ধরনের বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে।

প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পাশাপাশি রোববার ব্রাজিলের ভোটাররা জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের বিভিন্ন পদেও প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন। প্রায় ১৬ কোটি নিবন্ধিত ভোটার আইনপ্রণেতা, গভর্নর ও সিনেটর নির্বাচনে ভোট দেবেন।

লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে সাম্প্রতিক সময়ে ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তির জনপ্রিয়তা বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ব্রাজিলের নির্বাচন শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার পালাবদলের প্রশ্ন নয়, পুরো অঞ্চলের রাজনৈতিক গতিপথের ওপরও এর প্রভাব পড়তে পারে।

এখন দেখার বিষয়, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার লুলা প্রথম দফাতেই জয় নিশ্চিত করতে পারেন কি না, নাকি বলসোনারোর ডানপন্থী উত্থান নির্বাচনের ফলকে দ্বিতীয় দফায় নিয়ে যায়।


Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন