- ০৩ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। মাদারীপুর
বরিশালের লোকাল বাসের টিকিট কাটা নিয়ে কয়েক দিন ধরে চলা বিরোধের জেরে মাদারীপুরের কালকিনির ভূরঘাটা ও বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে ভূরঘাটা সেতু এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
সংঘর্ষের সময় কয়েকটি দোকানে ভাঙচুর, ককটেল বিস্ফোরণ এবং ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে কালকিনি ও গৌরনদী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনার সূত্রপাত গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে। মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার গোপালপুর ইউনিয়নের বনগ্রামের বাসিন্দা এমারত ঘরামী বরিশাল যাওয়ার জন্য ভূরঘাটা এলাকার একটি বাস কাউন্টারে টিকিট কাটতে যান। শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে তিনি বাসের সামনের দিকে একটি আসন দেওয়ার অনুরোধ করেন।
কিন্তু কাউন্টারের সুপারভাইজার ওই আসন দিতে রাজি না হওয়ায় এমারতের সঙ্গে কাউন্টারকর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে কর্মচারী সবুজ ফকিরের সঙ্গে তাঁর বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, এ সময় সবুজের চাচাতো ভাই আকাশ ফকির পাশের একটি মুদি দোকান থেকে এসে এমারতকে মারধর করেন।
এই ঘটনার কয়েক দিন পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে এমারত ওই বাস কাউন্টারে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ফের উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সেখানে হাতাহাতিও হয়। এর জের ধরে শুক্রবার রাতে ভূরঘাটা সেতু এলাকায় দুই পক্ষের লোকজন জড়ো হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। এ সময় ককটেল বিস্ফোরণের পাশাপাশি দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে। সংঘর্ষে মো. জান্নাত (২৬), আল-আমিন (৩৩) ও মো. শান্ত (১৬)সহ অন্তত ১০ জন আহত হন। আহতদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়।
এদিকে সংঘর্ষের মধ্যে মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু হলে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় এক ঘণ্টা সড়কটি দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারেনি। এতে মহাসড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং যাত্রীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়।
সংঘর্ষের সময় ভূরঘাটা এলাকার কয়েকটি দোকানপাটে ভাঙচুর করা হয়েছে বলেও স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে সবুজ ফকির বলেন, ‘আমার কোনো দোষ নেই। এমারতই আগে হামলা করেছে।’
অন্যদিকে এমারত বলেন, ‘সবুজই সব দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করেছে। আমি কিছুই করিনি।’
কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, বাসের টিকিট কাটাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং মহাসড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।