- ১২ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
চলতি জুন মাসের প্রথম ১০ দিনেই দেশে ১২০ কোটি মার্কিন ডলারের বেশি প্রবাসী আয় এসেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, মাসের প্রথম দশ দিনে দেশে মোট ১২০ কোটি ৩১ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। প্রতিদিন গড়ে ১২ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা।
একই সময় গত বছর দেশে এসেছিল প্রায় ৯৫ কোটি ৬২ লাখ ডলার। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি এবং প্রবাসীদের আস্থার কারণে এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে।
চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে জুনের ১০ তারিখ পর্যন্ত দেশে মোট প্রবাসী আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩৯৬ কোটি ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এ প্রবাহ প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব থেকে জানা গেছে।
সম্প্রতি শেষ হওয়া মে মাসেও রেমিট্যান্সে বড় উল্লম্ফন দেখা যায়। ওই মাসে প্রবাসীরা ৩৪২ কোটির বেশি ডলার দেশে পাঠান, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণের রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এর আগে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহের নজির সৃষ্টি হয়েছিল। এছাড়া জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও এপ্রিল মাসেও তিনশ কোটি ডলারের কাছাকাছি বা তার বেশি প্রবাসী আয় এসেছে, যা ধারাবাহিক ইতিবাচক প্রবণতারই প্রতিফলন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রবাসী আয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। রেমিট্যান্স প্রবাহের এই ঊর্ধ্বগতি আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষা এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
অন্যদিকে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে প্রবাসীরা দেশে ৩০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ পাঠিয়েছেন, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো একক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণের নতুন রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা খাত আরও শক্তিশালী হবে।