- ১২ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, করব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়েছে। প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এ বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যার বড় অংশই আসবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট উপস্থাপনকালে বলেন, কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, প্রযুক্তিনির্ভর এবং জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে করের আওতা সম্প্রসারণের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। সাধারণ করদাতাদের পাশাপাশি নারী, প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এবং বিশেষ শ্রেণির নাগরিকদের জন্যও পৃথক কর সুবিধা বহাল রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। সরকারের মতে, এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠী কিছুটা স্বস্তি পাবে।
দ্রব্যমূল্যের চাপ কমাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষিপণ্য ও খাদ্যপণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। ধান, চাল, গম, আলু, মাছ, মাংস, পেঁয়াজ, রসুন, ভোজ্যতেলসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যে কর রেয়াত দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কয়েক ধরনের মসলা ও খেজুর আমদানিতে শুল্ক কমানোর ফলে বাজারমূল্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য খাতেও কর সুবিধার ঘোষণা এসেছে। ক্যানসার চিকিৎসাসংশ্লিষ্ট ওষুধ উৎপাদনের কাঁচামাল, এপিআই এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত নির্দিষ্ট যন্ত্রাংশ আমদানিতেও কর অব্যাহতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল অর্থনীতিকে উৎসাহিত করতে কনটেন্ট নির্মাতা, ফ্রিল্যান্সার এবং স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় প্রযুক্তি শিল্পেরn বিকাশে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদনে বিদ্যমান কর সুবিধার মেয়াদ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আয়কর ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন হিসেবে সারা বছর রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই রিটার্ন দাখিল করলে করদাতারা বিশেষ ছাড় পাবেন বলে বাজেটে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে কর্পোরেট করের হার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উৎসে কর্তিত করকে ন্যূনতম করের পরিবর্তে অগ্রিম কর হিসেবে গণ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সবুজ পরিবহন ব্যবস্থাকে উৎসাহিত করতে বৈদ্যুতিক গাড়ি, বাস, ট্রাক ও ই-বাইক খাতে কর ও শুল্ক সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বৈদ্যুতিক যানবাহনের যন্ত্রাংশ আমদানিতেও বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সরকারের দাবি, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে রাজস্ব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়বে, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তবে বিশাল বাজেট ঘাটতি পূরণ এবং নির্ধারিত রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা অর্জন আগামী অর্থবছরে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন অর্থনীতি সংশ্লিষ্টরা।