- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
আর্থিক খাতে সুশাসন জোরদার ও ঝুঁকি আগেভাগে শনাক্ত করতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তদারকি পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন আনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথাগত পরিদর্শন ব্যবস্থার পরিবর্তে এখন থেকে তথ্য ও বিশ্লেষণভিত্তিক ‘ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি’ (Risk-Based Supervision–RBS) চালু করা হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় সব ব্যাংকের ওপর একইভাবে নজরদারি করা হবে না; বরং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী তদারকি জোরদার বা শিথিল করা হবে।
১ জানুয়ারি থেকে এই নতুন পদ্ধতি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে তা পিছিয়ে যায়। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী রোববার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ঝুঁকিভিত্তিক তদারকির কাঠামো ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে তদারকিসংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো পুনর্গঠন করা হয়েছে। আগে যেখানে ১৩টি বিভাগ ছিল, সেখানে এখন ১৭টি বিভাগ গঠন করা হয়েছে। এর মধ্যে ‘ব্যাংক সুপারভিশন’ নামে ১২টি বিভাগ থাকবে, যেগুলোর আওতায় ব্যাংকের ধরন ও ঝুঁকির মাত্রা অনুযায়ী দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় ব্যাংকগুলোর সরবরাহ করা তথ্য, আর্থিক সূচক, পরিচালন কাঠামো ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দিকনির্দেশনা দেবে। প্রয়োজনে তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ে অতিরিক্ত তথ্য চাওয়া হবে। তদারকির ফলাফলের ভিত্তিতে কোনো ব্যাংকের কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক অপসারণ কিংবা পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। সংকট গুরুতর হলে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ প্রয়োগের সুযোগও রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া কারিগরি ও ডিজিটাল ব্যাংকিং তদারকি, ডেটা ব্যবস্থাপনা ও বিশ্লেষণ, তদারকিসংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন, পেমেন্ট সিস্টেম সুপারভিশন এবং মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে নতুন করে পাঁচটি বিভাগ চালু করা হয়েছে। মানি লন্ডারিং–সংক্রান্ত নতুন বিভাগটি বিএফআইইউর আদলে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা ও আমানতকারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঝুঁকিভিত্তিক তদারকি বহুদিন ধরেই কার্যকর রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেয় এবং গত বছর পরীক্ষামূলকভাবে কয়েক ধাপে ব্যাংকগুলোর ওপর আরবিএস প্রয়োগ করা হয়।
নতুন ব্যবস্থায় প্রতিটি ব্যাংকের ব্যবসায়িক মডেল, অভ্যন্তরীণ সুশাসন ও ভবিষ্যৎ ঝুঁকি মোকাবিলার সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হবে। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠান বড় সংকটে পড়ার আগেই সতর্ক করা সম্ভব হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এটি একটি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে আগেই শনাক্ত করে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া যাবে।