- ১৯ জানুয়ারি, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
সঞ্চয়পত্রে বিনিয়োগকারীদের জন্য নতুন করে মুনাফার হার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে এ–সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছে, যা অর্থ উপদেষ্টার অনুমোদন পেলেই কার্যকর করা হবে। এরপর অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) আনুষ্ঠানিক পরিপত্র জারি করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, বর্তমানে সঞ্চয়পত্রে সর্বনিম্ন মুনাফার হার ৯ দশমিক ৭২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৯৮ শতাংশ। নতুন প্রস্তাবে গড়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা কমানোর সুপারিশ করা হয়েছে। জানুয়ারি থেকেই এই নতুন হার কার্যকর হতে পারে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রস্তাবটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর কাছে পৌঁছায়নি। তবে তিনি জানান, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে ব্যাংকারদের পক্ষ থেকে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কিছুটা কমানোর দাবি দীর্ঘদিনের। সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও বিনিয়োগ প্রবণতা বিবেচনা করেই সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের স্বার্থ রক্ষায় কম অঙ্কের বিনিয়োগে তুলনামূলক বেশি মুনাফা রাখা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে মুনাফার হার বেশি এবং এর বেশি বিনিয়োগে হার কিছুটা কম নির্ধারণ করা হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ জুন সরকার আয় ও ঋণ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে নিয়মিত বিরতিতে সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার পর্যালোচনার সিদ্ধান্ত নেয়। সে সময় গড় মুনাফা কিছুটা কমিয়ে ঘোষণা দেওয়া হয় এবং ছয় মাস পর নতুন করে হার নির্ধারণের কথা জানানো হয়। আগামী ৩১ ডিসেম্বর সেই ছয় মাসের সময়সীমা শেষ হচ্ছে।
আইআরডি সচিব মো. আবদুর রহমান খান বলেন, মুনাফার হার বাড়ানো বা কমানোর বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অর্থ বিভাগের সুপারিশ পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী পরিপত্র জারি করা হবে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন সঞ্চয়পত্রের মধ্যে পরিবার সঞ্চয়পত্র সবচেয়ে জনপ্রিয়। বর্তমানে এতে সাড়ে ৭ লাখ টাকার কম বিনিয়োগে পাঁচ বছর শেষে মুনাফা ১১ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং এর বেশি বিনিয়োগে ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ দেওয়া হচ্ছে। পেনশনার সঞ্চয়পত্রে এ হার যথাক্রমে ১১ দশমিক ৯৮ ও ১১ দশমিক ৮০ শতাংশ। পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র ও তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্রেও প্রায় একই হারে মুনাফা কার্যকর রয়েছে।
তবে ওয়েজ আর্নার ডেভেলপমেন্ট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড, ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ড এবং ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাবের মুনাফার হারে কোনো পরিবর্তন আনা হচ্ছে না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এদিকে বেসরকারি ব্যাংকের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকসের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার বলেন, সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তুলনামূলক বেশি থাকায় বড় অঙ্কের সঞ্চয় সরকারি খাতে চলে যাচ্ছে। মুনাফার হার কিছুটা কমলে সেই অর্থ ব্যাংকিং খাতে ফিরে আসবে, যা বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই–অক্টোবর) সঞ্চয়পত্র বিক্রি থেকে সরকার নিট ২ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে। অক্টোবর শেষে সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা।