- ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে নতুন করে সাংবিধানিক ও আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। গত ২২ জুলাই দলটি তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় এবং পরদিন বিষয়টি জানিয়ে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেয়।
তবে রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার হলেই সংসদ সদস্যের আসন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হবে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে এমন কোনো সরাসরি বিধান নেই। এ কারণে গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে বিষয়টি কীভাবে নিষ্পত্তি হবে, তা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে ভিন্ন ব্যাখ্যা রয়েছে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে অথবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু দলীয় বহিষ্কারকে একইভাবে আসন শূন্য হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের মতে, গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকার সুযোগ নেই। তিনি সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এ ধরনের বিরোধে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসানের ব্যাখ্যা ভিন্ন। তার মতে, শুধু দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার কারণে একজন সংসদ সদস্যের আসন স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হওয়ার কথা সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বলা নেই। তবে বহিষ্কারের পর অন্য কোনো সাংবিধানিক শর্ত তৈরি হলে বিষয়টি ভিন্নভাবে বিবেচিত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, সংসদ সদস্যের আসন নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে সংবিধানের ৬৬(৪) অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা রয়েছে। তবে কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার সুযোগও রাখতে পারেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে গাজী নজরুলকে বহিষ্কারের পর নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছিল, শুধু দলীয় বহিষ্কারের চিঠির ভিত্তিতে কমিশনের তাৎক্ষণিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। স্পিকার বা সংসদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি পাঠানো হলে তা আইন অনুযায়ী পর্যালোচনা করা হবে। পরবর্তী সময়ে ইসি সচিবও জানান, সংসদ সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি না পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই।
এরই মধ্যে গাজী নজরুলের ব্যক্তিগত বিষয়কে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে আরেকটি আইনি জটিলতা। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা হলে গাজী নজরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলাটিতে দুই দফায় মোট আট দিনের রিমান্ড শেষে ২৮ সেপ্টেম্বর তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
ফলে গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে এখন দুটি বিষয় আলাদাভাবে সামনে এসেছে একদিকে দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় চলমান ফৌজদারি মামলা, অন্যদিকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের পর তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে সাংবিধানিক প্রশ্ন। তার এমপি পদ নিয়ে চূড়ান্ত অবস্থান নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সাংবিধানিক ও আইনগত প্রক্রিয়ায় স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।