Tuesday, May 12, 2026

ইউরোভিশন ২০২৬: উৎসবের মঞ্চে রাজনীতি, বয়কট ও বিতর্কের ছায়া


ছবিঃ রবিবার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ইউরোভিশন সঙ্গীত প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ফিরোজা রঙের কার্পেটের ওপর মন্টেনিগ্রোর প্রতিনিধি তামারা জিভকোভিচ আলোকচিত্রীদের জন্য পোজ দিচ্ছেন। (সংগৃহীত । মার্টিন মাইসনার/এপি)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

ইউরোপের সবচেয়ে বড় সংগীত আয়োজন হিসেবে পরিচিত ইউরোভিশন সং কনটেস্টের ৭০তম আসর এবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় শুরু হলেও উৎসবের আনন্দকে ছাপিয়ে সামনে এসেছে রাজনৈতিক বিতর্ক, বয়কট এবং আর্থিক চাপের আলোচনা। মঙ্গলবার শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে আগামী শনিবার।

এবারের আয়োজনকে ঘিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে ইসরায়েলের অংশগ্রহণ। গাজা যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে কয়েকটি দেশ প্রতিযোগিতা বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়। স্পেন, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া ও আইসল্যান্ডের মতো দেশ বিভিন্নভাবে নিজেদের দূরে সরিয়ে রেখেছে। কেউ সরাসরি অংশ নেয়নি, আবার কেউ অনুষ্ঠান সম্প্রচার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ফলে ইউরোভিশনের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বড় কয়েকটি সম্প্রচার অংশীদার দেশ অনুপস্থিত থাকায় আয়োজকদের জন্য এটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউরোপজুড়ে সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত গণমাধ্যমগুলো অর্থনৈতিক চাপে থাকায় ভবিষ্যতে এই বিশাল আয়োজনের অর্থসংস্থান আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

গত বছরের আসর বিশ্বজুড়ে বিপুল দর্শক টানলেও এবার দর্শকসংখ্যা কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে যেসব দেশে সম্প্রচার বন্ধ রাখা হয়েছে, সেখানে লাখো দর্শক এবার অনুষ্ঠান দেখতে পারবেন না। স্পেন তাদের নিজস্ব সংগীত অনুষ্ঠান প্রচার করছে, আর আয়ারল্যান্ড ও স্লোভেনিয়া বিকল্প অনুষ্ঠান দেখানোর পরিকল্পনা নিয়েছে।

শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়েই নয়, ইউরোভিশনকে ঘিরে গড়ে ওঠা ভক্তসমাজেও বিভাজন দেখা দিয়েছে। জনপ্রিয় কিছু ফ্যান প্ল্যাটফর্ম এবারের আয়োজন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। অনেকের মতে, যে প্রতিযোগিতা একসময় ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মিলনমেলা ছিল, সেটি এখন রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রতীকে পরিণত হচ্ছে।

ভিয়েনার রাস্তায়ও উত্তেজনা স্পষ্ট। ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ও ইসরায়েল সমর্থকদের পাল্টা সমাবেশ ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে অস্ট্রিয়ান পুলিশ। আয়োজকদের ধারণা, ফাইনালের আগের দিন এবং ফাইনালের দিন হাজারো মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিতে পারে।

এদিকে অস্ট্রিয়ার একটি জরিপে দেখা গেছে, দেশটির অনেক নাগরিকই ইউরোভিশন আয়োজনের বিপুল ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ মনে করছেন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে এত বড় আয়োজন দেশের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

সংগীতের মঞ্চেও রাজনৈতিক ইঙ্গিত এবার নতুন নয়। গত দুই আসরেই ইসরায়েলের গান ও শিল্পীদের ঘিরে বিতর্ক ছিল। এবারের প্রতিযোগিতায় ইসরায়েলের প্রতিনিধিত্ব করছেন ২৮ বছর বয়সী গায়ক নোয়াম বেত্তান। তার গান “মিশেল” নিয়ে শুরুর দিকে নানা জল্পনা থাকলেও পরে জানা যায়, এটি মূলত ব্যক্তিগত সম্পর্কের টানাপোড়েন নিয়ে লেখা একটি গান।

অন্যদিকে ফিনল্যান্ডের নাটকীয় ব্যালাড “লিয়েকিনহেইতিন” এবারের আসরে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন বুকমেকাররা। গ্রিস, ডেনমার্ক ও বুলগেরিয়ার শিল্পীরাও আলোচনায় আছেন। ব্রিটিশ প্রতিযোগী “লুক মাম নো কম্পিউটার”-এর সম্ভাবনা তুলনামূলক কম বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, ইউরোভিশন ২০২৬ শুধু সংগীত প্রতিযোগিতা নয়, বরং ইউরোপের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, সাংস্কৃতিক বিভাজন এবং জনমতের প্রতিচ্ছবিও হয়ে উঠেছে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন