- ১০ মার্চ, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সর্বশেষ হামলায় Bahrain-এর রাজধানী Manama-তে একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানলে একজন নিহত এবং অন্তত আটজন আহত হয়েছেন।
দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিহত ব্যক্তি ২৯ বছর বয়সী এক নারী। মঙ্গলবারের এই হামলার আগে সোমবারও রাজধানীর দক্ষিণে অবস্থিত সিত্রা দ্বীপে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে কয়েকজন আহত হন বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
বাহরাইনের প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলার সময় তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরান থেকে ছোড়া অন্তত ১০২টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ১৭৩টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে। তারা এ ঘটনাকে “ইরানের আগ্রাসন” হিসেবে বর্ণনা করেছে।
হামলার প্রভাব শুধু বাহরাইনেই সীমিত থাকেনি। United Arab Emirates-এর শহর Dubai-তে মঙ্গলবার সকালে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। একই সময়ে Saudi Arabia জানিয়েছে, তাদের পূর্বাঞ্চলের আকাশে দুটি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে।
অন্যদিকে Kuwait-এর ন্যাশনাল গার্ড দাবি করেছে, দেশের উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলে হামলার উদ্দেশ্যে আসা ছয়টি ড্রোন তারা ভূপাতিত করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক হামলাগুলোর একটি বড় অংশ জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে করা হচ্ছে। কাতারেও কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার খবর পাওয়া গেছে।
ইরানি হামলার কারণে বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি কোম্পানি বাপ্কো কিছু সরবরাহ চুক্তি সাময়িকভাবে পূরণ করতে পারবে না বলে জানিয়েছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ Shaybah Oil Field-এও ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদিত হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও। বৈশ্বিক মানদণ্ড Brent Crude-এর দাম একসময় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলার ছুঁয়ে ফেলেছিল। পরে কিছুটা কমলেও যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় এখনও অনেক বেশি দামে লেনদেন হচ্ছে।
ইরান ইতিমধ্যে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ Strait of Hormuz দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে বাধা দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পথ দিয়েই বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালিতে তেল সরবরাহ বন্ধের চেষ্টা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র আরও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেবে।
অন্যদিকে ইরানের প্রভাবশালী বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps-এর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, যুদ্ধ কখন শেষ হবে সে সিদ্ধান্ত ইরানই নেবে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত ক্রমেই বিস্তৃত আকার নিচ্ছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।