Saturday, March 7, 2026

ইরান–ইসরায়েল সংঘাতে এলএনজি সরবরাহ ব্যাহত, চড়া দামে গ্যাস কিনছে বাংলাদেশ


ছবিঃ বাংলাদেশ বাধ্য হয়ে এখন স্পট মার্কেট বা খোলা বাজার থেকে অস্বাভাবিক চড়া দামে এলএনজি কিনছে। (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট PNN

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান–ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরকার এখন স্পট মার্কেট বা খোলা বাজার থেকে অনেক বেশি দামে এলএনজি আমদানি করতে বাধ্য হচ্ছে।

জ্বালানি খাতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কাতার এনার্জি দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় গ্যাস সরবরাহ স্থগিত করে ‘ফোর্স মেজার’ বা অনিবার্য পরিস্থিতি ঘোষণা করেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দেশে গ্যাসের ব্যবহার সীমিত করতে রেশনিং শুরু হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে অন্তত চারটি সার কারখানায়।

রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা পরিস্থিতি সামাল দিতে মার্চ মাসে স্পট মার্কেট থেকে দুটি এলএনজি কার্গো কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর একটি সুইজারল্যান্ডভিত্তিক জ্বালানি কোম্পানি গানভোর থেকে প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ২৮ দশমিক ২৮ ডলার দরে কেনা হয়েছে, যা ১৫–১৬ মার্চের মধ্যে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। অন্যটি ভিটোল থেকে ২৩ দশমিক ৮ ডলার দরে কেনা হয়েছে, যা ১৮–১৯ মার্চ নাগাদ আসতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

কয়েক মাস আগেও স্পট মার্কেটে এলএনজির দাম অনেক কম ছিল। জানুয়ারিতে বাংলাদেশ প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় ১০ ডলার দরে গ্যাস কিনতে পেরেছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই দাম প্রায় তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানি আমদানিতে ব্যয় দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে।

পেট্রোবাংলার একজন কর্মকর্তা জানান, কাতার থেকে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প হিসেবে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে গ্যাস কেনা ছাড়া তেমন কোনো উপায় ছিল না। বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদনসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে গ্যাস সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

এই কারণে কয়েকটি সার কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ রেখে সেখানকার গ্যাস অন্য খাতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, যদি মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে বাংলাদেশকে আরও বেশি সময় স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যা বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে।

জ্বালানি সংকটের প্রভাব ইতিমধ্যে শিল্প ও কৃষি খাতেও উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষ করে সার কারখানা বন্ধ থাকায় ভবিষ্যতে সারের ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় পেট্রোবাংলা বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে গ্যাসের উচ্চমূল্য বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন জ্বালানি বিশ্লেষকেরা।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন