- ০৩ এপ্রিল, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎস থেকে তেল আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশের সঙ্গে এ সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এ তথ্য জানান। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় সরকার বিকল্প উৎস খুঁজে জ্বালানি আমদানি নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
তিনি জানান, Indonesia, Kazakhstan এবং Malaysia থেকে জ্বালানি তেল আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়ার একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরকার-টু-সরকার চুক্তির আওতায় ৬০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আনার প্রক্রিয়া চলছে। পাশাপাশি কাজাখস্তান থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ১ লাখ মেট্রিক টন ডিজেল আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া থেকেও তেল আনার কার্যক্রম এগিয়ে চলছে এবং একটি জাহাজ ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে।
সরকারি সূত্র জানায়, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধি সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের ওপর চাপ কমাতে জ্বালানি খাতে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা হয়েছে। বর্তমানে দেশে প্রায় এক মাসের জ্বালানি তেলের মজুত রয়েছে বলেও জানানো হয়।
নাসিমুল গনি জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, পরিস্থিতি সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে স্পট মার্কেট থেকেও জ্বালানি সংগ্রহ করা হবে।
এদিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকার ইতোমধ্যে কিছু কৃচ্ছ্রসাধনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে অফিস সময়সূচিতে পরিবর্তন এবং সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে শপিং মল বন্ধ রাখার নির্দেশনা রয়েছে।
সরকার আশা করছে, বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির এই উদ্যোগ দেশের শিল্প উৎপাদন ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।