- ২১ মে, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে বিশ্বকাপকে সামনে রেখে পরিকল্পিত তিন দিনের প্রস্তুতি ক্যাম্প বাতিল করেছে কঙ্গো ফুটবল দল। একই সঙ্গে রাজধানী কিনশাসায় সমর্থকদের জন্য আয়োজন করা বিদায়ী অনুষ্ঠানও স্থগিত করা হয়েছে।
দেশটির পূর্বাঞ্চলে বিরল ধরনের ‘বান্ডিবুগিও’ ইবোলা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, এখন পর্যন্ত শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং কয়েক শ মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে এটিকে আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করেছে।
তবে প্রস্তুতি ক্যাম্প বাতিল হলেও বিশ্বকাপের আগে নির্ধারিত দুটি প্রীতি ম্যাচ ঠিক সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। আগামী ৩ জুন বেলজিয়ামের লিয়েজ শহরে ডেনমার্কের বিপক্ষে এবং ৯ জুন স্পেনে চিলির বিপক্ষে মাঠে নামবে কঙ্গো।
দলের মুখপাত্র জেরি কালেমো জানান, প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হিসেবে কিনশাসায় সমর্থকদের বিদায়ী অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। এরপর ইউরোপে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ এবং শেষ ধাপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুশীলন ক্যাম্প করার কথা রয়েছে। তবে শুধুমাত্র কিনশাসার কর্মসূচি বাতিল করা হয়েছে।
কঙ্গো দলের বেশিরভাগ ফুটবলার বর্তমানে ইউরোপে অবস্থান করছেন। বিশেষ করে অনেক খেলোয়াড় ফ্রান্সের বিভিন্ন ক্লাবে খেলায় ব্যস্ত। দলের প্রধান কোচ সেবাস্তিয়াঁ দেসাব্রেও দেশের বাইরে রয়েছেন।
এদিকে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছে। খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই সমন্বয় চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ কঙ্গো, উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদান থেকে আসা ভ্রমণকারীদের ওপর সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। তবে কঙ্গো জাতীয় ফুটবল দল এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে বলে জানা গেছে, কারণ দলটি সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপেই অবস্থান করছে।
বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘কে’তে থাকা কঙ্গো আগামী ১৭ জুন হিউস্টনে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে। এরপর কলম্বিয়া ও উজবেকিস্তানের বিপক্ষেও খেলবে দলটি।
১৯৭৪ সালের পর এই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে কঙ্গো। দীর্ঘ সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সংকটের মধ্যে থাকা দেশটির জন্য এই অর্জনকে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।