Monday, January 19, 2026

হিলি স্থলবন্দরে রপ্তানি বাণিজ্যে বাড়ছে গতি


ছবিঃ হিলি স্থলবন্দরে রপ্তানি (সংগৃহীত)

স্টাফ রিপোর্ট: PNN 

দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দীর্ঘদিন আমদানিনির্ভর থাকলেও চলতি অর্থবছরে রপ্তানি বাণিজ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। ২০২৫–২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর এই চার মাসে হিলি বন্দর দিয়ে শত শত ট্রাকে দেশীয় পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

হিলি কাস্টমস সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাসে এই বন্দর দিয়ে ৪২৯টি ট্রাকে মোট ১০ হাজার ৭৬২ মেট্রিক টন দেশীয় পণ্য ভারতে রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানিকৃত পণ্যের মধ্যে বিস্কুট, আসবাবপত্র, প্লাস্টিক পাইপসহ বিভিন্ন শিল্পজাত পণ্য রয়েছে। একই সময়ে ৯ হাজার ৩৮৪টি ট্রাকে প্রায় ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৪৯৩ মেট্রিক টন পণ্য আমদানি হয়েছে, যার বিপরীতে সরকার রাজস্ব পেয়েছে প্রায় ২২৩ কোটি টাকা।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, গত অর্থবছরে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে রপ্তানি কার্যক্রম প্রায় স্থবির ছিল। তবে চলতি অর্থবছরে রপ্তানি শুরু হওয়ায় বন্দরের সার্বিক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরেছে। পাশাপাশি আগের বছরের তুলনায় আমদানির পরিমাণও বেড়েছে।

আমদানি-রপ্তানি বাড়ায় সবচেয়ে বেশি সুফল পাচ্ছেন বন্দরকেন্দ্রিক শ্রমিকরা। শ্রমিক রকি, তাজুল ও হুমায়নের ভাষ্য, এখন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজের ব্যস্ততা থাকে। আগে অনেক দিন কাজ না পেয়ে বসে থাকতে হতো, আর এখন নিয়মিত কাজ করে দৈনিক ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব হচ্ছে।

ট্রাক চালকরাও বন্দর এলাকায় বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। চালক আতিকুল ইসলাম ও রাব্বি জানান, কয়েক মাস ধরে প্রতিদিনই গাড়ি ভাড়া হচ্ছে। এতে চালকদের পাশাপাশি ট্রাক মালিকদের আয়ও বেড়েছে।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক নূর-ইসলাম বলেন, আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১০–১৫টি ভারতীয় ট্রাক বন্দরে ঢুকত, এখন কোনো কোনো দিনে ১৫০টিরও বেশি ট্রাক প্রবেশ করছে। তার মতে, আমদানি-রপ্তানি স্বাভাবিক থাকলে বন্দরের সঙ্গে যুক্ত সব শ্রেণি-পেশার মানুষই উপকৃত হয়।

হিলি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফেরদৌস রহমান জানান, হিলি বন্দর দিয়ে দেশীয় পণ্য রপ্তানি শুরু হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে ভারতে রপ্তানির পরিমাণ আরও বাড়বে।

এদিকে হিলি-পানামা পোর্ট লিংক লিমিটেডের সহকারী ব্যবস্থাপক অতিশ কুমার শ্যানাল বলেন, রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্দরের কার্যক্রমও সম্প্রসারিত হয়েছে। প্রতিটি রপ্তানিকৃত ট্রাক থেকে নির্ধারিত ওজন ফি ও এন্ট্রি ফি আদায় করা হচ্ছে।

হিলি কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুল আজিজ জানান, চলতি অর্থবছরে হিলি বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক ও গতিশীল রয়েছে। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ দ্রুততার সঙ্গে ছাড়করণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করায় ব্যবসায়ীরা সময়মতো পণ্য পরিবহন করতে পারছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, অবকাঠামো ও নীতিগত সহায়তা অব্যাহত থাকলে হিলি স্থলবন্দর ভবিষ্যতে উত্তরাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন