- ০২ অক্টোবর, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। হবিগঞ্জ
মৌলভীবাজারে পরিবহন শ্রমিকদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও হবিগঞ্জের বাস আটকে রাখার অভিযোগে অনির্দিষ্টকালের পরিবহন ধর্মঘট শুরু হয়েছে হবিগঞ্জে। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ভোর থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে গন্তব্যে যেতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের ডাকে শুরু হওয়া এই ধর্মঘটে জেলার বিভিন্ন যানবাহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর নেতারা সংহতি জানিয়েছেন।
হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আবু মঈন চৌধুরী সোহেল বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার-সিলেট রুটে হবিগঞ্জের বাস চলাচলে নানা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে শ্রমিকদের মারধর এবং বাস ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। সম্প্রতি হবিগঞ্জের তিনটি বাস মৌলভীবাজারে আটকে রাখা হয়েছে। একাধিকবার বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হলেও পরে আবার একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তিনি জানান, গত ১২ জুন সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে হবিগঞ্জ-সিলেট ভায়া মৌলভীবাজার রুটে আগের নিয়মে বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত হয়। তবে শ্রীমঙ্গলে হবিগঞ্জের বাস কোনো যাত্রী ওঠানামার স্টপেজ দিতে পারবে না এমন সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী বাস চলাচল করছিল।
এরপর গত ১১ সেপ্টেম্বর মৌলভীবাজারের এসএমএস মালিক-শ্রমিকরা হবিগঞ্জের ২২টি বাস আটকে রাখেন বলে দাবি করেন আবু মঈন চৌধুরী। পরে ২০ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুই পক্ষের বৈঠক হয়। সেখানে ১২ জুনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাস চলাচলের বিষয়ে সমঝোতা হলে আটকে রাখা বাসগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়।
তবে তাঁর অভিযোগ, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকালে হবিগঞ্জের বাস ওই রুটে আবার চলাচল শুরু করলে মৌলভীবাজারের এসএমএস কর্তৃপক্ষ তিনটি বাস আটকে রাখে। সেগুলো এখনো ছেড়ে দেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে এবং সমস্যার স্থায়ী সমাধানের দাবিতে ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে হবিগঞ্জের মালিক-শ্রমিকদের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও এসএমএস বাস মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম রিপন। তাঁর দাবি, দুই পক্ষের মধ্যে বিষয়টি সমাধানের পথে ছিল। এর মধ্যেই হবিগঞ্জ মোটর মালিক গ্রুপের লোকজন শ্রীমঙ্গলে এসএমএস পরিবহনের কাউন্টারে হামলা ও ভাঙচুর করেন।
আব্দুর রহিম রিপন বলেন, ওই ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিক আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে একজন আইসিইউতে রয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, হবিগঞ্জের মালিক সমিতি বাস আটকে রাখার অভিযোগ করলেও শ্রীমঙ্গলের শ্রমিকরাই বাসগুলো আটকে রেখেছেন। এ ঘটনায় থানায় মামলাও করা হয়েছে।
তিনি বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে হলে দুই পক্ষকে নিয়ে আলোচনায় বসে বিষয়টির সমাধান করতে হবে।
এদিকে, পরিবহন ধর্মঘটের কারণে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই হবিগঞ্জের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। অভ্যন্তরীণ ও দূরপাল্লার বাস বন্ধ থাকায় বিকল্প যানবাহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে অনেককে। দীর্ঘস্থায়ী হলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।