- ১৬ মে, ২০২৬
দীর্ঘদিন ধরে বলিউডের দর্শকদের হাসিয়ে আসছেন জনপ্রিয় অভিনেতা রাজপাল যাদব। পর্দায় তার উপস্থিতি মানেই ভিন্নধর্মী কৌতুক আর প্রাণবন্ত অভিনয়। তবে হাসির আড়ালে যে দীর্ঘ অনুশীলন, চরিত্র বিশ্লেষণ এবং অভিনয় নিয়ে নিরন্তর শেখার চেষ্টা কাজ করে, সাম্প্রতিক এক আড্ডায় সেই অভিজ্ঞতার কথাই তুলে ধরেছেন তিনি।
পরিচালক প্রিয়দর্শন–এর সঙ্গে দীর্ঘদিনের কাজের সম্পর্ক প্রসঙ্গে রাজপাল বলেন, সময়ের সঙ্গে তাদের বোঝাপড়া আরও গভীর হয়েছে। তার ভাষায়, একসঙ্গে দীর্ঘদিন কাজ করলে এমন এক রসায়ন তৈরি হয়, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তিনি জানান, প্রিয়দর্শনের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা তাকে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখিয়েছে।
অভিনেতার মতে, কমেডি মোটেও সহজ কোনো বিষয় নয়। বরং এটি স্বাভাবিকভাবে ভেতর থেকে আসতে হয়। তিনি বলেন, সঠিক টাইমিং, শরীরী ভাষা এবং আবেগের সূক্ষ্ম ব্যবহার ছাড়া ভালো কমেডি সম্ভব নয়। রাজপালের ভাষায়, “বিনোদন শুধু হাসি বা কান্না নয়, এটি একধরনের বিজ্ঞান, যাকে বুঝে আয়ত্ত করতে হয়।”
চার্লি চ্যাপলিন, গোবিন্দ, রজনীকান্ত এবং জ্যাকি চ্যান–কে নিজের প্রিয় কমেডিয়ান হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তাদের অভিনয় দক্ষতাকে তিনি “অসাধারণ সৃজনশীলতা” বলে বর্ণনা করেন।
শুধু কৌতুক অভিনেতা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না রাজপাল যাদব। তিনি জানান, গম্ভীর চরিত্রেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ইচ্ছা রয়েছে তার। একই সঙ্গে দর্শকের পছন্দ ও নিজের শিল্পীসত্তার মধ্যে ভারসাম্য রেখে কাজ করতে চান বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নিজের অভিনয়জীবনে পরিচালক রাম গোপাল ভার্মা ও ডেভিড ধাওয়ান–এর অবদানের কথাও স্মরণ করেন রাজপাল। তিনি বলেন, এই নির্মাতারা তার ওপর নানা ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন, যার বেশিরভাগই সফল হয়েছে। ‘চুপ চুপ কে’, ‘মালামাল উইকলি’ ও ‘ঢোল’–এর মতো চলচ্চিত্রে সেই সাফল্যের প্রতিফলন দেখা গেছে।
কমেডির সংজ্ঞা দিতে গিয়ে অভিনেতা বলেন, তিনি এমন সংলাপ খোঁজেন যেখানে শিশু, তরুণ ও বৃদ্ধ—সব বয়সী দর্শক একসঙ্গে হাসতে পারেন। অশালীনতাকে কখনোই ভালো কমেডির অংশ মনে করেন না তিনি। তার মতে, নির্মল হাসিই একটি চলচ্চিত্রকে দর্শকের কাছে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে।
আড্ডার শেষদিকে সফলতার মূলমন্ত্র প্রসঙ্গে রাজপাল যাদব বলেন, “যে মানুষ শিল্পকে ছাত্রের মতো শিখতে চায়, সেই টিকে থাকে। শেখার মানসিকতা হারিয়ে ফেললে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।”