- ১৬ মে, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা পিয়ার্স ব্রসনান আজ তাঁর জন্মদিন উদ্যাপন করছেন। আইরিশ গ্রামের দরিদ্র শৈশব থেকে বিশ্বজুড়ে কোটি দর্শকের প্রিয় মুখ হয়ে ওঠার এই যাত্রা যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়। ব্যক্তিগত সংগ্রাম, ক্যারিয়ারের উত্থান–পতন এবং শেষ পর্যন্ত ‘জেমস বন্ড’ হিসেবে বিশ্বজয়—সব মিলিয়ে তাঁর জীবন আজও অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল উদাহরণ।
১৯৫৩ সালের ১৬ মে আয়ারল্যান্ডের ছোট শহর ড্রোগেডায় জন্ম নেওয়া ব্রসনানের শৈশব ছিল কষ্টে ভরা। খুব অল্প বয়সেই তিনি বাবার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। সংসারের দায়িত্ব নিতে তাঁর মা লন্ডনে কাজ শুরু করলে ছোট পিয়ার্সকে আত্মীয়দের কাছে বড় হতে হয়। শৈশবের এই একাকিত্ব ও সামাজিক অবজ্ঞা তাঁর মানসিক গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে।
কৈশোরে লন্ডনে গিয়ে তিনি নতুন জীবন শুরু করেন। প্রথমে চিত্রশিল্পী হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও পরে ধীরে ধীরে অভিনয়ের দিকে ঝুঁকে পড়েন। অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নিতে তিনি নাট্যবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখান থেকে থিয়েটারের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করে ধীরে ধীরে টেলিভিশনে কাজের সুযোগ পান। আশির দশকে টিভি সিরিজ ‘রেমিংটন স্টিল’ তাঁকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দেয়।
তবে তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল ‘জেমস বন্ড’ চরিত্রে অভিনয় করা। আশির দশকেই তিনি প্রায় সেই সুযোগ পেয়ে যান, কিন্তু চুক্তিগত জটিলতার কারণে তা হাতছাড়া হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে ১৯৯৫ সালে ‘গোল্ডেনআই’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবারের মতো জেমস বন্ড হিসেবে পর্দায় হাজির হন পিয়ার্স ব্রসনান। তাঁর স্টাইল, আত্মবিশ্বাস এবং আকর্ষণীয় উপস্থিতি দ্রুতই দর্শকদের মন জয় করে নেয়।
পরবর্তীতে ‘টুমরো নেভার ডাইজ’, ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ইজ নট এনাফ’ এবং ‘ডাই অ্যানাদার ডে’ সিনেমাগুলোর মাধ্যমে তিনি নব্বইয়ের দশকের অন্যতম জনপ্রিয় ‘জেমস বন্ড’ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। সমালোচকেরা তাঁর বন্ড চরিত্রকে আভিজাত্য, আধুনিকতা ও অ্যাকশনের এক অনন্য সংমিশ্রণ হিসেবে বিবেচনা করেন।
অভিনয়জীবনের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁকে কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। তাঁর প্রথম স্ত্রী ক্যাসান্দ্রা হ্যারিস ক্যানসারে মারা গেলে তিনি গভীর শোকে ভেঙে পড়েন। পরবর্তীতে একই রোগে তিনি তাঁর সৎকন্যাকেও হারান, যা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি।
পরে সাংবাদিক ও উপস্থাপক কিলি শেই স্মিথের সঙ্গে তিনি নতুন জীবন শুরু করেন। বর্তমানে তাঁদের সম্পর্ক হলিউডের অন্যতম স্থায়ী ও সুখী দাম্পত্য হিসেবে পরিচিত।
‘জেমস বন্ড’ ছাড়াও ‘মাম্মা মিয়া!’, ‘দ্য টমাস ক্রাউন অ্যাফেয়ার’, ‘দ্য গোস্ট রাইটার’ এবং ‘ব্ল্যাক অ্যাডাম’সহ বিভিন্ন ঘরানার চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন। বয়স বাড়লেও তিনি এখনো বেছে বেছে কাজ করে যাচ্ছেন।
অভিনয়ের বাইরে তিনি পরিবেশ সংরক্ষণ আন্দোলনের সঙ্গেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত। সমুদ্র দূষণ প্রতিরোধ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং বন্যপ্রাণী রক্ষায় তাঁর দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। পাশাপাশি তিনি একজন দক্ষ চিত্রশিল্পী হিসেবেও পরিচিত।
বর্তমানে পরিবার, শিল্পচর্চা এবং সীমিত পরিসরে অভিনয়ের মধ্যেই সময় কাটাচ্ছেন এই কিংবদন্তি অভিনেতা। দারিদ্র্য থেকে বিশ্বখ্যাত তারকা হয়ে ওঠার তাঁর এই জীবনগল্প আজও প্রমাণ করে—স্বপ্ন, অধ্যবসায় এবং দৃঢ় সংকল্প থাকলে কঠিন বাস্তবতাকেও জয় করা সম্ভব।