- ১৬ জুন, ২০২৬
স্টাফ রিপোর্ট: PNN
যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন গুগলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সুন্দর পিচাই। বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে আমন্ত্রিত অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত হলেও তাঁর বক্তব্যকে ঘিরে একাংশের শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে প্রতিবাদ জানায়।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সমাবর্তন অনুষ্ঠানে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আসন ছেড়ে বেরিয়ে যান। এ সময় অনেককে স্লোগান দিতে এবং গুগলের বিভিন্ন নীতির সমালোচনামূলক প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করতে দেখা যায়।
বিক্ষোভকারীদের মূল অভিযোগ ছিল, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সঙ্গে গুগলের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই)-এর সঙ্গে কোম্পানিটির সম্পর্ক। শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা বিভিন্ন ব্যানার ও পোস্টারে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি গুগলের ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তের সমালোচনা উঠে আসে।
প্রতিবাদে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে বিবেচিত কার্যক্রমে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্পৃক্ততার বিরুদ্ধে তারা অবস্থান নিতে চান। সেই কারণেই তারা অনুষ্ঠানে নীরব দর্শক হয়ে না থেকে প্রতীকীভাবে ওয়াকআউটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
স্ট্যানফোর্ডের কয়েকটি শিক্ষার্থী সংগঠন যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। তাদের দাবি, প্রযুক্তি খাতের বৃহৎ প্রতিষ্ঠানগুলোর সামাজিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা নিয়ে আরও জোরালো আলোচনা প্রয়োজন।
গাজা সংঘাতকে কেন্দ্র করে গুগলের বহুল আলোচিত ‘প্রজেক্ট নিম্বাস’ চুক্তি গত কয়েক বছর ধরেই বিতর্কের বিষয় হয়ে আছে। এই প্রকল্পের আওতায় গুগল ও অ্যামাজন যৌথভাবে ক্লাউড কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা প্রদান করছে। বিষয়টি নিয়ে অতীতেও কোম্পানির ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদ দেখা গেছে।
অন্যদিকে প্রযুক্তি খাতের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভের সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এবং এ ধরনের প্রতিবাদ সেই বৃহত্তর সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা ও সক্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে সমাবর্তনের মতো আনুষ্ঠানিক আয়োজনেও এসব ইস্যু আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসছে।
তবে পুরো ঘটনার মধ্যেও সুন্দর পিচাই তাঁর বক্তব্য সম্পন্ন করেন। যদিও অনুষ্ঠানের একটি বড় অংশ জুড়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদই আলোচনার প্রধান বিষয় হয়ে ওঠে।