- ০২ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। গোপালগঞ্জ
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় চোর সন্দেহে তিনজনকে আটকের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১ জুন) সন্ধ্যায় উপজেলার ঘাঘরকান্দা-বেপারিপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ওহাব গাজী, জালাল গাজী, খলিল গাজী, আরিফুল গাজী, জলিল গাজী, ছনিয়া খানম, মাজেদা বেগম, হান্নান বরকতউল্লাহ, মুকুল মুন্সী, অলি বরকতউল্লাহ, তাওসীন বরকতউল্লাহ, হানিফ শেখ, হাবিব মুন্সী ও জাহিদুল বরকতউল্লাহসহ আরও কয়েকজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যাটারি চুরির অভিযোগে তিনজনকে আটক করে বেপারিপাড়া গ্রামের মাদকবিরোধী কমিটির কার্যালয়ে রাখা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন উপজেলার কাঠিগা গ্রামের মোরসালিন মিয়া, চিতশী গ্রামের রাসেল দাড়িয়া এবং ঘাঘরকান্দা গ্রামের আব্দুল্লাহ দাড়িয়া।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে কাঠিগা ও চিতশী গ্রামের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে আটক ব্যক্তিদের মুক্ত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় মাদকবিরোধী কমিটির কার্যালয় ও কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘাঘরকান্দা-বেপারিপাড়া গ্রামের মাদকবিরোধী কমিটির সাধারণ সম্পাদক জসিম মোল্লা দাবি করেন, স্থানীয় এক ব্যক্তির গাড়ির ব্যাটারি চুরির অভিযোগে তিনজনকে আটক করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছিল। তবে পুলিশ আসার আগেই অন্য গ্রামের লোকজন হামলা চালিয়ে আটক ব্যক্তিদের ছিনিয়ে নিয়ে যায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর করে।
অন্যদিকে কাঠিগা-চিতশী এলাকার ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আনোয়ার হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের লোকজনের ওপরই হামলা চালানো হয়েছে এবং তারাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রিয়াদ মাহমুদ জানান, ঘটনাটি নিয়ে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। তবে পুলিশ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং বর্তমানে এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।