Sunday, September 20, 2026

গণভোটের রায় উপেক্ষা করে সংবিধান সংশোধন নয়: ১১ দলীয় ঐক্য


ছবিঃ গণভোটের গণরায় পাশ কাটিয়ে সংবিধান সংশোধন নয়: ১১ দলীয় ঐক্য (সংগৃহীত)

PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা 

গণভোটে জনগণের দেওয়া রায়কে পাশ কাটিয়ে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। জোটটির নেতাদের দাবি, জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত এবং গণভোটে অনুমোদিত সাংবিধানিক সংস্কার নির্ধারিত কাঠামো ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বাস্তবায়ন করতে হবে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জোটের পক্ষ থেকে এ অবস্থান তুলে ধরা হয়। জাতীয় সংসদে গঠিত সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতেই এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, গণভোটে বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ‘হ্যাঁ’ পড়ে।

১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা মনে করেন, ওই গণভোটে জনগণ শুধু পৃথক কিছু সংস্কার প্রস্তাবের বিষয়ে মতামত দেয়নি; বরং সংস্কার বাস্তবায়নের নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও কাঠামোর প্রতিও সম্মতি জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছিল।

জোটটির অভিযোগ, গণভোটের ফল অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ কার্যকর করার পরিবর্তে সংসদীয় বিশেষ কমিটির মাধ্যমে সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে জনগণের সরাসরি ভোটে দেওয়া সাংবিধানিক ম্যান্ডেট যথাযথভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে দাবি তাদের।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেটের বিকল্প হিসেবে কোনো সংসদীয় বিশেষ কমিটিকে বিবেচনা করা যায় না। গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই জুলাই জাতীয় সনদের সাংবিধানিক সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি জানায় ১১ দলীয় ঐক্য।

একই সঙ্গে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদ প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন জোটের নেতারা। তাদের ভাষ্য, সংবিধান সংশোধনের ক্ষমতা জাতীয় সংসদের থাকলেও সেই ক্ষমতা সীমাহীন নয়। বিশেষ করে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের বিভিন্ন রায়ে প্রতিষ্ঠিত নীতিগুলোও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়ন, জুলাই জাতীয় সনদে অন্তর্ভুক্ত সাংবিধানিক সংস্কার কার্যকর করা এবং গণভোটে অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করার দাবি জানানো হয়।

এ ছাড়া নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানায় জোটটি। জনগণের ভোটে প্রকাশিত সাংবিধানিক ম্যান্ডেটকে পাশ কাটিয়ে একতরফাভাবে মৌলিক কাঠামো-সংশ্লিষ্ট পরিবর্তন না করারও আহ্বান জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে বলা হয়, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটে প্রকাশিত জনগণের রায়—এই তিনটি বিষয়কে বিবেচনায় রেখেই চলমান সাংবিধানিক মতপার্থক্যের সমাধান করা প্রয়োজন।

সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

Super Admin

PNN

প্লিজ লগইন পোস্টে মন্তব্য করুন!

আপনিও পছন্দ করতে পারেন