- ০২ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগকে ঘিরে যে আলোচনা ও অবস্থানগত টানাপোড়েন চলছে, তা মূলত প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তির নিরাপত্তাহীনতার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম।
সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান, অতীত অভিজ্ঞতা এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
মাহফুজ আলমের মতে, আওয়ামী লীগকে ঘিরে বিএনপি ও জামায়াতের অবস্থানের পেছনে ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক স্মৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, অতীতের রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ ও সংঘাতের স্মৃতি থেকেই বিভিন্ন দলের মধ্যে এক ধরনের অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ক্ষমতার রাজনীতির বাইরে যারা সাম্প্রতিক সময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন, তাদের জন্য নতুন ধরনের চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি সংগঠন ও প্রভাব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম তরুণদের মধ্যে বিভাজন ও পারস্পরিক বিরোধের সমালোচনা করে বলেন, সীমিত রাজনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে প্রতিযোগিতার পরিবর্তে বৃহত্তর লক্ষ্য নির্ধারণ করা প্রয়োজন। তিনি তাদের রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে আরও সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান।
তরুণদের উদ্দেশে তিনি পরামর্শ দেন, কেবল রাজনৈতিক দলভিত্তিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিষ্ঠান গঠন, সামাজিক নেতৃত্ব সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রণয়নের দিকে মনোযোগী হতে হবে। একই সঙ্গে ব্যক্তি আক্রমণ ও বিদ্বেষের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে মতাদর্শভিত্তিক সুস্থ বিতর্কের পরিবেশ তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
পোস্টে মাহফুজ আলম আরও উল্লেখ করেন, অতীতের বিভিন্ন সময়ে তরুণদের রাজনৈতিক শক্তি নানা কারণে ক্ষয় হয়েছে। তাই বর্তমান প্রজন্মকে নিজেদের ভবিষ্যৎ সংগ্রামের রূপরেখা নিজেদেরই নির্ধারণ করতে হবে বলে মত দেন তিনি।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যারা ভূমিকা রেখেছেন, তাদের সেই সাহস ও ত্যাগের চেতনাকে সাংগঠনিক শক্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। তাহলেই ভবিষ্যতে কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির পুনরাবৃত্তি রোধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
মাহফুজ আলমের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তার বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে ইতোমধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।