- ০২ জুন, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। রাঙামাটি
সরকার গঠনের মাত্র সাড়ে তিন মাসের মাথায় পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগ রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। ঈদের ছুটির পর প্রথম কর্মদিবসেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পদত্যাগপত্র জমা দেন এবং তা গৃহীত হয়। যদিও পদত্যাগপত্রে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন, তবে বিষয়টি ঘিরে বিভিন্ন মহলে নানা ব্যাখ্যা ও জল্পনা-কল্পনা চলছে।
পদত্যাগপত্রে দীপেন দেওয়ান উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন তিনি। এ কারণে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বজায় রাখতে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেওয়াকে প্রয়োজনীয় মনে করেছেন বলে জানান।
তবে তার পদত্যাগের ঘোষণার পরপরই রাঙামাটিতে সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার এবং তাকে পুনর্বহালের দাবিতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয়। সমর্থকদের দাবি, তিনি স্বেচ্ছায় নয়, বরং বিভিন্ন চাপের মুখে পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।
রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম, পার্বত্য জেলা পরিষদ পুনর্গঠন এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে মতভিন্নতা তার পদত্যাগের পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। যদিও এসব বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন পদত্যাগের সঙ্গে ব্যক্তিগত বা প্রশাসনিক কোনো দ্বন্দ্বের বিষয়টি নাকচ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, দীপেন দেওয়ানের সঙ্গে তার সুসম্পর্ক ছিল এবং পদত্যাগের সিদ্ধান্ত তাকে বিস্মিত করেছে।
অন্যদিকে দীপেন দেওয়ানের ঘনিষ্ঠদের দাবি, তিনি পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চেয়েছিলেন। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সংলাপের বিষয়ে তিনি আগ্রহী ছিলেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার অধিকারী দীপেন দেওয়ান বিচার বিভাগে কর্মজীবন শুরু করলেও পরে রাজনীতিতে যোগ দেন। বিএনপির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন শেষে সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং মন্ত্রিসভায় স্থান পান।
তার পদত্যাগের পর মন্ত্রিসভার ভবিষ্যৎ পুনর্গঠন নিয়েও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্বল্প সময়ের মধ্যে একজন পূর্ণ মন্ত্রীর পদত্যাগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে তুলনামূলক বিরল ঘটনা। ফলে বিষয়টি শুধু পার্বত্য অঞ্চলে নয়, জাতীয় রাজনীতিতেও বিশেষ গুরুত্ব নিয়ে আলোচিত হচ্ছে।
এদিকে সমর্থক ও দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ এখনও তার পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে সরকার এ বিষয়ে কোনো নতুন সিদ্ধান্ত নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।