- ০১ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
গাজায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে পড়ায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জরুরি কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়েছে মিসর। একই সঙ্গে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তাও দিয়েছে কায়রো।
মিসরীয় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, গাজায় ইসরায়েলের দখলদারিত্ব আরও বিস্তৃত হলে চলমান শান্তি প্রচেষ্টা গুরুতরভাবে ব্যাহত হবে এবং পুরো অঞ্চল আবারও পূর্ণমাত্রার সংঘাতের দিকে ধাবিত হতে পারে।
একজন মিসরীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, শান্তি প্রক্রিয়া রক্ষায় হামাসের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলকে কায়রোতে জরুরি আলোচনায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন হামাসের প্রধান আলোচক খলিল আল-হাইয়া।
সূত্রটি জানায়, কূটনৈতিক যোগাযোগ অত্যন্ত তীব্র গতিতে চলছে এবং সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগেই নতুন করে আলোচনা শুরুর চেষ্টা করছে মিসর, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। গত দুই সপ্তাহে অন্তত ১৪১ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে ইসরায়েলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বক্তব্য ও সামরিক পরিকল্পনা যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলেছে বলে মনে করছেন মধ্যস্থতাকারীরা।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা ৫৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭০ শতাংশে উন্নীত করার নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে, যা বিদ্যমান শান্তি কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
কায়রো ইসরায়েলকে সতর্ক করে বলেছে, গাজাবাসীদের অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার মতো কোনো পদক্ষেপ বা রাফাহ সীমান্ত দিয়ে চাপ প্রয়োগ শান্তি প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে ব্যাহত করবে।
মিসর একই সঙ্গে কাতার, তুরস্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালাচ্ছে। মধ্যস্থতাকারীরা যুদ্ধবিরতির মূল চুক্তিতে কিছু সংশোধন এনে সহিংসতা কমানোর পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করছে।
মিসরীয় সূত্রের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে ইসরায়েলকে সংযত করতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে হামাস বলছে, বারবার চুক্তি লঙ্ঘনের কারণে যুদ্ধবিরতি চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীদের দ্রুত কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পরও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। পরবর্তী সময়ে শত শত ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ অবস্থায় মিসরের এই কূটনৈতিক উদ্যোগ গাজা পরিস্থিতিকে নতুন করে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।