- ০১ জুন, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। একই সময় কুয়েত জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আক্রমণ প্রতিহত করা হয়েছে।
ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজের বরাতে জানানো হয়, আইআরজিসি বলেছে তারা হরমুজগান প্রদেশের সিরিক দ্বীপে একটি যোগাযোগ টাওয়ারে হামলার জবাবে এই অভিযান চালিয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়, ওই হামলা যেখান থেকে পরিচালিত হয়েছিল, সেই মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে তাদের অ্যারোস্পেস বাহিনী আক্রমণ চালায় এবং নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়।
অন্যদিকে কুয়েতের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আকাশে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। হামলার সময় দেশজুড়ে সাইরেন বাজানো হয়।
কুয়েতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছে, এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্ত করছে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানায়, ইরানের একটি ড্রোন ভূপাতিত করার পর তারা পাল্টা ব্যবস্থা নেয় এবং ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন ধ্বংস করে।
CENTCOM আরও দাবি করেছে, এই ঘটনায় কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।
চলমান উত্তেজনা এমন এক সময়ে দেখা দিল, যখন এপ্রিল থেকে কার্যকর থাকা একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চলছে।
প্রস্তাবিত একটি সমঝোতা কাঠামো অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ানো এবং পরে স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোনোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো যায়নি।
প্রস্তাবিত আলোচনায় হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাহীন রাখা, মাইন অপসারণ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এসব শর্ত নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বারবার পরিবর্তন হওয়ায় এবং ইসরায়েলি কর্মকাণ্ডের কারণে আস্থা সংকট তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান চুক্তি করতে আগ্রহী এবং ভবিষ্যতের যেকোনো সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অনুকূল হবে। তবে তিনি সমালোচকদের উদ্দেশে কড়া মন্তব্য করেন এবং বলেন, শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি ইতিবাচকভাবেই শেষ হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, পাল্টা হামলা ও ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সামরিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।