- ০৬ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার একটি সালিশ বৈঠক রক্তাক্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়। জমি-সংক্রান্ত বিরোধ মীমাংসার উদ্দেশ্যে আয়োজিত ওই বৈঠকে হামলার শিকার হয়ে আব্দুর রাজ্জাক নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। ঘটনার পর দুই নারীসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রোববার (৫ জুলাই) বিকেলে উপজেলার তারাপুর ইউনিয়নের মীরগঞ্জ চাচিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একই গ্রামের চাচাতো ভাই আমজাদ হোসেন ও গোলজার হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলামের উপস্থিতিতে স্থানীয় বাসিন্দা সাজু ব্যাপারীর বাড়ির উঠানে একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়।
বৈঠকের একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় শুরু হয়। পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন উপস্থিত আব্দুর রাজ্জাক। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, তিনি বিরোধ মিটিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানালে গোলজার হোসেনের পরিবারের কয়েকজন সদস্য তার ওপর চড়াও হন। এ সময় তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দ্রুত আব্দুর রাজ্জাককে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে গোলজার হোসেন, লিমন মিয়া, রিমন মিয়া, রত্না আক্তার ও মনজুয়ারা বেগমকে গ্রেফতার করে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই আতোয়ার রহমান বাদী হয়ে রোববার রাতেই সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মো. আমানউল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।