- ০৬ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজা ও রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানে লাখো মানুষের অংশগ্রহণের মধ্যেও একটি বিষয় সবার নজর কাড়ে—দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত অনুষ্ঠানে খামেনির তিন ছেলে মোস্তফা, মেইসাম ও মাসউদকে বাবার কফিনের পাশে দোয়া করতে দেখা গেলেও মোজতবাকে কোথাও দেখা যায়নি।
রোববার তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে আয়োজিত শোকানুষ্ঠানে আলী খামেনির কফিনের পাশাপাশি তাঁর পরিবারের আরও চার সদস্যের কফিন রাখা হয়। রাষ্ট্রীয় কর্মকর্তা, সামরিক বাহিনীর সদস্য, ধর্মীয় শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আলী খামেনি এবং তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্য নিহত হন। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা সংঘাতের পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ওই যুদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির সৃষ্টি করে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানায়, শোকানুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হওয়ায় অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় এক ঘণ্টা বাড়ানো হয়। অনেককে ইরানের পতাকা এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগানসংবলিত ব্যানার বহন করতে দেখা যায়।
মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রের দাবি, ফেব্রুয়ারির হামলায় তিনি আহত হন এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে গুরুতর আঘাত পান। যদিও এ বিষয়ে ইরান সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানায়নি।
শোকানুষ্ঠানে উপস্থিত একাধিক ব্যক্তি গণমাধ্যমকে জানান, তাঁরা নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে একনজর দেখার আশা করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি প্রকাশ্যে না আসায় অনেকেই হতাশা প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফসহ সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জানাজার সময় আলী খামেনির ছেলে মাসউদ খামেনিকে আবেগাপ্লুত হয়ে কাঁদতে দেখা যায়।
ইরান সরকার সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। তেহরানে কেন্দ্রীয় শোকানুষ্ঠান শেষে খামেনির মরদেহ ধর্মীয় নগরী কোমে নেওয়া হবে। এরপর ইরাকের পবিত্র শহর নাজাফ ও কারবালায় ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে পুনরায় ইরানে ফিরিয়ে এনে মাশহাদে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের শোকযাত্রায় লাখো মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পরিবহন, আবাসন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতিতে ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক মহল।