- ০৬ জুলাই, ২০২৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক। PNN
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। সোমবার ভোররাতের এ হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত এবং ৪৬ জন আহত হয়েছেন। হামলায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একাধিক আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চলমান থাকায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, হামলায় শহরের অন্তত ১৫টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঐতিহাসিক পোদিলস্কি জেলার চারটি আবাসিক ভবনও রয়েছে। ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে জরুরি সেবাকর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন।
রাজধানীর বাইরে কিয়েভ-সংলগ্ন এলাকাতেও হামলার প্রভাব পড়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে আরও একজন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া ৬৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ৩৫১টি ড্রোন নিক্ষেপ করে। একাধিক দফায় বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে রাজধানী। হামলার সতর্কসংকেত বেজে উঠতেই হাজারো মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মেট্রো স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ বাঙ্কারে ছুটে যান।
এর কয়েক দিন আগেও কিয়েভে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছিল রাশিয়া। ওই হামলায় ৩১ জন নিহত হন, যা চলতি বছরে রাজধানীতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
সোমবারের হামলার আগে দেওয়া এক ভিডিও ভাষণে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছিলেন, ন্যাটোর আসন্ন শীর্ষ সম্মেলনের আগে রাশিয়া নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালাতে পারে। এই সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিতব্য ন্যাটো সম্মেলনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর বৈঠকেরও কথা রয়েছে।
এদিকে পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে ইউক্রেনও। রাশিয়ার নিয়ন্ত্রিত ক্রিমিয়ার সেভাস্তোপলের কাছে ইউক্রেনীয় হামলায় জ্বালানি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায় বলে জানিয়েছেন ওই অঞ্চলের রুশ-নিযুক্ত গভর্নর মিখাইল রাজভোজায়েভ।
চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন আরও জটিল পর্যায়ে পৌঁছেছে। উভয় পক্ষই দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের ব্যবহার বাড়িয়েছে, যার ফলে যুদ্ধক্ষেত্রের পাশাপাশি বড় শহর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ক্রমেই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে।