- ১২ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। নোয়াখালী
নোয়াখালীর চেয়ারম্যান ঘাট থেকে হাতিয়ার নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া একটি ফেরি মাঝনদী থেকে ঘুরিয়ে এনে নোয়াখালী–৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদকে তোলার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে ফেরিতে থাকা যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন সংসদ সদস্য।
শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে চেয়ারম্যান ঘাটে এ ঘটনা ঘটে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহন নিয়ে ‘মহানন্দা’ ফেরি নলচিরা ঘাটের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। প্রায় ২০ মিনিট চলার পর ফেরিটি আবার চেয়ারম্যান ঘাটের দিকে ফিরে আসে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ফেরি ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ চেয়ারম্যান ঘাটে পৌঁছান। এরপর তাকে হাতিয়ায় নেওয়ার জন্য ফেরিটি ফিরে আসে। এমপি ও তার সফরসঙ্গীরা ফেরিতে ওঠার পর পুনরায় নলচিরার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে।
বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে এমন সিদ্ধান্তে অনেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের ভাষ্য, নদী পারাপারের সময় ফেরি হঠাৎ ঘুরে যাওয়ায় শুরুতে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। পরে ঘাটে ফিরে এসে তারা জানতে পারেন, একজন জনপ্রতিনিধিকে তুলতেই ফেরিটি ফিরিয়ে আনা হয়েছে। যাত্রীদের মতে, একজন ব্যক্তির জন্য শতাধিক যাত্রীর সময় ও ভোগান্তিকে গুরুত্বহীন করে দেখানো উচিত নয়।
ফেরির মেরিন ইঞ্জিনিয়ার সাজ্জাদুল ইসলাম জানান, ফেরি ছাড়ার কিছুক্ষণ পর সংসদ সদস্যের হাতিয়ায় যাওয়ার বিষয়টি জানানো হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ফেরিটি চেয়ারম্যান ঘাটে ফিরিয়ে আনা হয়।
ঘাট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি মো. জহির উদ্দিন বলেন, ফেরি ছাড়ার সময়সূচি নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি থাকলেও ছাড়ার পর সংসদ সদস্যকে বহনের জন্য ফেরিটি ফিরে আসে। হাতিয়ায় ফেরি চলাচল শুরু হওয়ার পর এ ধরনের ঘটনা এটিই প্রথম বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদ বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনের প্রয়োজনেই তার জরুরি ভিত্তিতে হাতিয়া যাওয়া দরকার ছিল। তার দাবি, ফেরিটি খুব বেশি দূরে যায়নি এবং বিষয়টি নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা তৈরি করেছে। অনেকেই সরকারি সেবায় সমতা ও সময়সূচি মেনে চলার গুরুত্ব তুলে ধরছেন। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেয়নি।