- ১৭ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। গাইবান্ধা
গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জুলাই পদযাত্রা উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে বক্তব্যের শেষ মুহূর্তে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে আলোচনায় এসেছেন দলের উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শফিজল ইসলাম। ঘটনাটি ঘটার পরপরই তিনি নিজের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সংশোধন করে ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে বক্তব্য শেষ করেন। তবে এরই মধ্যে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) বিকেলে সাদুল্লাপুর শহীদ মিনার চত্বরে ‘দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে এনসিপির পথসভা ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা শাখার আহ্বায়ক শফিজল ইসলাম।
বক্তব্যে তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। জামালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এলাকার মানুষের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন এবং তাদের সহযোগিতা পেলে নির্বাচনে ভালো ফলের আশা করছেন।
তবে বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান উচ্চারণ করেন। এ সময় মঞ্চে উপস্থিত কেন্দ্রীয় নেতাসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা বিস্মিত দৃষ্টিতে তার দিকে তাকান। পরে মুহূর্তের মধ্যেই তিনি নিজের ভুল বুঝতে পেরে ‘সরি’ বলে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে বক্তব্য শেষ করে মঞ্চ ত্যাগ করেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিতদের মধ্যে কিছু সময়ের জন্য হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি হয়।
সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, কেন্দ্রীয় সংগঠক নাজমুল হাসান সোহাগ, কেন্দ্রীয় নেত্রী সুমাইয়া ফারজানা দিনা, গাইবান্ধা জেলা কমিটির আহ্বায়ক এস এম খাদেমুল ইসলাম খুদি, উপজেলা সদস্য সচিব আতিকুর রহমান আতিকসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতারা।
পরে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন শফিজল ইসলাম। তিনি জানান, বক্তব্যের শেষ অংশে তিনি মূলত জামালপুর ইউনিয়নবাসী ও সাদুল্লাপুরবাসীর কল্যাণ কামনা করে বক্তব্য শেষ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অসাবধানতাবশত মুখ ফসকে ‘জয় বাংলা’ বলে ফেলেন।
তিনি বলেন, এটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত ছিল। বিষয়টি বুঝতে পেরেই তিনি সঙ্গে সঙ্গে দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং বক্তব্য সংশোধন করেছেন।
এদিকে সমাবেশের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ এটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য করছেন। তবে এ বিষয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।