- ১৫ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী বলেছেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংকট কেবল ফারাক্কা ইস্যু নয়; বরং শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের গুরুত্ব অনুধাবনে নেতৃত্বের ব্যর্থতাই দেশের জন্য আরও বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, কর্মসংস্থানের সংকট এবং চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলন নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
পোস্টে নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, স্বাধীনতার পরও বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় শিক্ষাব্যবস্থার একটি সুস্পষ্ট ও কার্যকর কাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি। তার ভাষ্য, বিদ্যমান শিক্ষা ব্যবস্থা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির চেয়ে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বাড়াতেই বেশি ভূমিকা রেখেছে।
তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রের অর্থনীতি এখনো মূলত তৈরি পোশাক শিল্প ও অদক্ষ শ্রমশক্তি রপ্তানির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু সেই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ, উদ্ভাবনী ও কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিবর্তে একের পর এক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদন দেওয়াকেই সংস্কার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
রাষ্ট্র পরিচালনায় দূরদর্শিতার অভাব এবং দলীয় রাজনৈতিক সংকীর্ণতাকে এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী করে এনসিপির এই নেতা বলেন, কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তরুণ সমাজকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
নিজের বক্তব্যে তিনি বলেন, অনেকেই ফারাক্কাকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মরণফাঁদ বলে উল্লেখ করেন। তবে তার মতে, যখন রাষ্ট্রের নেতৃত্ব শিক্ষা, কর্মসংস্থান এবং প্রকৃত সংস্কারের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হয়, তখন সেটিই একটি জাতির জন্য আরও বড় বিপর্যয় ডেকে আনে। এতে পুরো একটি প্রজন্ম প্রতিশ্রুতির আড়ালে হতাশা ও অনিশ্চয়তার শিকার হয়।
চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, শিক্ষার্থীদের আন্দোলন কেবল একটি পরীক্ষা বা তাৎক্ষণিক দাবির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি ভবিষ্যৎ, ন্যায়ভিত্তিক শিক্ষা এবং মর্যাদাপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনের দাবির বহিঃপ্রকাশ। তার মতে, শিক্ষার্থীরা অল্প বয়সেই অন্যায্য সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস দেখিয়েছে এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় রাজপথে নেমেছে।
তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বলেন, তাদের এই সংগ্রাম সহজ নয়। সামনে নানা ধরনের প্রতিকূলতা এলেও তারা যেন ন্যায়সঙ্গত দাবিতে অবিচল থাকে। তরুণদের সাহস, আত্মত্যাগ ও প্রতিবাদকে সম্মান জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী দিনে তাদের হাত ধরেই একটি দক্ষতা-নির্ভর, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে উঠবে।