- ১৫ জুলাই, ২০২৬
PNN নিউজ ডেস্ক। ঢাকা
সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সরকার যেখানে জাতীয় সংসদের গঠিত বিশেষ কমিটির মাধ্যমে বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতর থেকেই সংশোধনী আনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, সেখানে বিরোধী দল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে অনড় থেকে সংসদ ও রাজপথ—উভয় ক্ষেত্রেই আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, সংবিধানের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনতে জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনের মতামত গ্রহণ করবে। তাদের সুপারিশের ভিত্তিতেই সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী বিল সংসদে উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
গত সোমবার জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। যদিও কমিটিটি ১৭ সদস্যের হওয়ার কথা ছিল। বিরোধী দলকে পাঁচজন সদস্যের নাম দিতে আহ্বান জানানো হলেও তারা কোনো নাম দেয়নি। ফলে পাঁচটি পদ শূন্য রেখেই কমিটির কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
কমিটি গঠনের প্রস্তাব সংসদে উত্থাপনের সময় বিরোধী দল তা প্রত্যাখ্যান করে ওয়াকআউট করে। তাদের অনুপস্থিতিতেই প্রস্তাবটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সংসদে বলেন, সংবিধানে সংস্কার পরিষদের বিধান বর্তমানে নেই। তাই আগে সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি ভিত্তি তৈরি করতে হবে। রাজনৈতিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হলেও তার জন্য প্রথমে সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য।
অন্যদিকে বিরোধী দল বলছে, জনগণের গণভোটে দেওয়া রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করাই ছিল জাতীয় অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না করে বিশেষ কমিটির মাধ্যমে এগোনোর সিদ্ধান্ত গণভোটের চেতনাকেই উপেক্ষা করছে।
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ ছাড়া রাষ্ট্রব্যবস্থার মৌলিক ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার সম্ভব নয়। তার অভিযোগ, সরকার এ পথ থেকে সরে গিয়ে দেশকে নতুন রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতারাও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছেন। তাদের ভাষ্য, জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংস্কার পরিষদই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি। এই দাবি বাস্তবায়নে সংসদের পাশাপাশি দেশব্যাপী রাজনৈতিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন তারা।
এদিকে বিশেষ কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মো. অলিউল্লাহ দাবি করেছেন, তাকে পূর্বানুমতি ছাড়াই কমিটির সদস্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, তার দল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছে এবং জনগণের মতামতকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
বিরোধী জোটের নেতারা জানিয়েছেন, সংসদে বিশেষ কমিটির বিরোধিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে মাঠপর্যায়ে আন্দোলন আরও বিস্তৃত করা হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের এই ভিন্ন অবস্থান আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। এখন উভয় পক্ষ আলোচনার পথে এগোয়, নাকি রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে অবস্থান আরও কঠোর করে সেদিকেই নজর থাকবে।